এবার নির্বাচন নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামীলীগ সরকার টানা তিন বার ক্ষমতায় রয়েছে। যদিও বিগত দুটি নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপির সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন দেখা যায়নি। যার কারনে নির্বাচন নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা অংগ্রহন করার কথা না বললেও নির্বাচনের ব্যাপারে নিজেদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী নির্বাচন কঠিন হবে মন্তব্য করে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শুক্রবার দলের নেতাদের ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি তাদের মনে রাখতে বলেন, এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এবং আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির গতকালের বৈঠকে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি এখন দলকে আরও বেশি সময় দেবেন এবং জনসভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা সফর শুরু করবেন। আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলো গ্রাউন্ডে তার প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা শুরু হয় বিকেল ৪টায় এবং শেষ হয় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২২তম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকালে কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিকেলে কাউন্সিল অধিবেশন এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য ২২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকালের বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে কোনো টাকার বিনিময় করা চলবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা টাকার পেছনে না ছুটে, ২০০৭ সালের রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের দলীয় পদ দেওয়া উচিত।

আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদের বিনিময়ে টাকা নেওয়া বন্ধ করার কথা ওবায়দুল কাদের বলার ২ দিন পর একই মন্তব্য পাওয়া গেল শেখ হাসিনার কাছে থেকেও।

গতকালের বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বললেও শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়টি মাথায় রাখতে বলেন।

শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচিত নেতারাই মনোনয়ন বার বার পাবেন এমন ভাবা ঠিক নয়। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জরিপ করা হয়েছে এবং উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজতে আরও জরিপ করা হবে।’

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। দলটি সেই কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পুনঃনির্বাচিত করে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী কমিটির আগের বৈঠক ৭ মে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সিদ্ধান্ত হয় ১৪ দলীয় জোটের আদর্শিক অংশীদারদের নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা ৩০০ আসনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের দাবি জানান।

গতকালের বৈঠকে আওয়ামী লীগ জোট ও সমমনা সংগঠনের বৈঠকের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চান আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং ওবায়দুল কাদের শিগগিরই এই বৈঠকের তারিখ ঠিক করবেন।

ইউএনবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সেহেতু বিএনপি সভা-সমাবেশ, মিছিলসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে হ/ত্যা, অ/গ্নিসংযোগ ও জ/ঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। কারণ, তারা মানুষ হ/ত্যা ও জীবন্ত পু/ড়িয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, দলটির প্রতি আস্থা থাকায় মানুষ বারবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে।

কিন্তু স/ন্ত্রাস, খু/ন, অ/গ্নিসংযোগ, সম্পত্তি লু/টপাট, বো/মা-গ্রে/নেড হা/মলা ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত বিএনপিকে জনগণ ভোট দেবে না।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির যারা অ/গ্নিসংযোগ ও জ/ঙ্গিবাদসহ খু/ন-স/ন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’

প্রসঙ্গত, যদিও বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না বললেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহন মূলক ও দলের জন্য কঠিক হবে সতর্ক করেন নেতাকর্মীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *