এবার দলের সংসদ সদস্যদের কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামীলীগ সরকারের বার বার ক্ষমতায় থাকার ধারাবাহিকতায় আভ্যন্তরীন কোন্দলে কারনে দলের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার জন্ম নিয়েছে। যার কারনে স্থানিয় সরকারসহ বিভিন্ন নির্বাচন দলীয় প্রার্থী হেরে গিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দলের নেতাকর্মীদের ভিতরে। বর্তমানে আওয়ামীলীগের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্য হয়ে দাড়িয়েছে এই বিষয় বলে জানিয়েছে অনেক মহল। দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হবে মন্তব্য করে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী অর্থাৎ নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিরোধিতাকারীদের শেখানো হবে। এছাড়া বিএনপি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সভা-সমাবেশ করলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

আন্দোলনের নামে স/ন্ত্রাস করলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। দীর্ঘ দিন পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া রোগের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের কোনো বৈঠক হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া রোগের পর এটাই ছিল সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় এমপিরা যারা স্থানীয় সরকার পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন, দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, নৌকা মার্কার প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন তাদের শিক্ষা দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে তা/দের দলের মনোনয়ন না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, এ সময় সরকারের উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধরতে দলের সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের কাজ জনগণের সামনে তুলে ধরলে এবং নিজেরা কাজ করলে বিএনপির আন্দোলনে কিছুই হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। নিজেদেরও কাজ স/ঠিকভাবে করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন ভালোভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় হতে হবে। যখনই কোনো গু/জব ছড়ানো হয়, ভুল তথ্য ছড়ানো হয়, তার জবাব দিতে হবে। সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। তাহলে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। সরকারে আমরা যে কাজ করেছি তা যদি সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয় এবং নিজেরা যদি সঠিক কাজটি করি তাহলে বিএনপির আন্দোলনে পানি আসবে না।

প্রসঙ্গত, সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজে করতে হবে এবং জনগণের নিকট সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে অবগত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের জনগণ সঠিক তথ্য জানলে বিভ্রান্তিতে পড়বে না এবং বিরোধী দল আন্দোলন করে সরকারের কিছুই করতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *