আপনি তো অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছেন, সে জন্যই গণভবনে চিতল মাছ ধরে সেই মাছ বোনকে দেখাচ্ছেন : রিজভী

সরকার অবৈধ্য ভাবে ক্ষমতা ধরে রেখে দেশের মানুষকে জিম্মী করে রেখেছেন। লাগামহীন দু/র্নীতি ও লু/টপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি হু/মকির মুখে ফেলেছে সরকার। যার সম্পর্ন দায় ভোগ করছে দেশের নিরিহ মানুষ। অথচ সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীরা বিশাল টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মাছ ধরছেন আর বুঝাচ্ছেন দেশের মানুষ শান্তিতে আছে মন্তব্য করে যে কথা জানালেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

গণভবনে চিতল মাছ ধরে তার বোনকে মাছটি দেখাচ্ছেন। সেই ছবি আবার ফেসবুকে দিচ্ছেন, আর বোঝাচ্ছেন দেশের মানুষ ভালো আছেন। কিন্তু দেশের মানুষ টিসিবির পণ্য কিনতে ট্রাকের পেছনে ছুটছে। তারা দিশেহারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

ছুটির দিনে গণভবনের লেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বঁড়শি দিয়ে চিতল মাছ ধরার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চান দেশের মানুষ ভালো আছেন। কিন্তু নিত্যদিনের পণ্যের দাম বাড়ায় তারা দিশেহারা।

মঙ্গলবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা এ কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টি আয়োজিত এ আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই।’

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বঁড়শি হাতে চিতল মাছ ধরার ছবি প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনি অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছেন’। তাই গণভবনে চিতল মাছ ধরে সেই মাছ বোনকে দেখাচ্ছেন। সেই ছবি আবার ফেসবুকে দিচ্ছেন, আর বো/ঝাচ্ছেন দেশের মানুষ ভালো আছেন। কিন্তু দেশের মানুষ টিসিবির পণ্য কিনতে ট্রাকের পেছনে ছুটছে। তারা দিশেহারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, “আজ সরকারের লোকজন হাজার হাজার টাকা পাচার করেছে। কোনো রিকশাচালক বা কা/ঠমিস্ত্রি এই টাকা পাচার করেনি। সরকারি লোকজন এই টাকা পাচার করেছে। যারা বি/দেশে বেগম পাড়া ক/রেছে। আসলে এই সরকারের উন্নয়ন
হচ্ছে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। উন্নয়নের কোন রড ছিল না।যার কারনে এখন হুড়মুড় করে সবকিছু ভেঙ্গে পড়ছে।

রিজভী মনে করেন, সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনার ক্ষমতার মনসদ হু/ড়মুড় ভে/ঙে পড়বে। আজ সাধারণ মানুষ বিএনপির মিছিলে এসে বুক পেতে বু/লেট রবন করছে। জনসাধারণ সামগ্রিকভাবে ফুঁ/সে উঠছে। তারা রাজপথে আছে এবং থাকবে।

সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের তালিকা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আজ তারা ১৯৯টি ওয়ার্ডের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর তালিকা করছে। হু/মকি দেওয়ার জন্য, ভয় দেখানোর জন্য কিন্তু শেষ রক্ষা হবে না।

বিএনপির সমাবেশে আবারও পরিবহন ধর্মঘটের ডাকে সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বিএনপির গণসমাবেশ ঠেকাতে সরকার নিজেই হরতাল ডেকেছে। কিন্তু জনস্রোত থামানো যায়নি। আজ ট্রলারে আ/গুন দেওয়া হচ্ছে, বিএনপি অফিসে আ/গুন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মানুষকে আটকানো যায়নি। তারা নদীতে সাঁতার কেটে, হেঁটে এবং বাধা অতিক্রম করে গণসমাবেশে যোগদান করে স/ফল করেছে।’

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “পতনের আগে সরকারের টিকে থাকার প্রচেষ্টাকে অবশ্যই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে কাবু করতে হবে।” তবেই আমরা জিততে পারব।

গণতন্ত্রের জন্য আমরা যে লড়াই করছি, তা ত্বরান্বিত করতে হবে। এই লড়াই এত সহজ নয়। তারা (আওয়ামী লীগ) গু/ম করেছে, খু/ন করেছে, এত টাকা লু/ট করেছে, বিদেশে পাচার করেছে, যার কারণে ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা করছে। জনগণের ক্ষোভকেও তারা ভয় পায়।

‘কোনো স্বৈরাচারী সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি’ মন্তব্য করে বিএনপি এই নে/তা বলেন, আইয়ুব খান পারেনি, হিটলার, মুসোলিনি, এরশাদ পারেনি, এই সরকারও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুল হালিম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে সরকার কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকার কোনো ভাবে ক্ষমতায়ে টিকে থাকতে পারবে না জনগণকে এভাবে বিপদে ফেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *