সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর এক বক্তব্য নিয়ে বর্তমানে নোয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। এদিকে, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর বক্তব্যের পর ওবায়দুল কাদেরর ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জা অনশন করছেন। এবার ওবায়দুল কাদেরর ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জা হরতালের ডাক দিলেন। তিনি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা বলেছেন।

আগামীকাল রোববার (২৪ জানুয়ারি) আধাবেলা হরতাল আহবান করেছে মির্জা কাদেরের নেতৃত্বে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে আপওিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে এ হরতালের ডাক দেন কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান।

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার পরিবার রাজাকার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে দেওয়া সংক্ষিপ্ত একটি ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করার পর তোলপাড় চলছে। ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি রাতেই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে ভিডিওটি প্রচারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে এবং গতকাল শুক্রবার সকালে জেলা শহরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা কাদের মির্জার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

ভিডিও বার্তায় একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ’দেশের মানুষ, সালামালাইকুম। আমি কথা বললে তো আর মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না। আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার ফ্যামিলির লোক এই পর্যায়ে এসেছে, তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার যদি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না আসে। তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে একরামুল করিম চৌধুরী কটূক্তি করায় অবস্থান ধর্মঘটে বসেছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

এদিকে, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অনেকে নানা রকম কথা বলছেন। অনেকে রাজনৈতিক নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন।