বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের একজন সিনিয়র রাজনৈতিক ব্যক্তি জাহাঙ্গীর কবির নানক যিনি দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন তবে তার ব্যক্তি জীবনে একটা খুব কষ্টের বিষয় রয়েছে। আর তা হল এই রাজনৈতিক ব্যক্তির একমাত্র ছেলে এই পৃথিবীতে নেই। আর আজ তার একমাত্র ছেলের মৃ’ত্যু’বার্ষিকী। এই দিনটা আসলেই তার একমাত্র ছেলের কথা সব থেকে বেশি মনে পরে। আর আজ তার একমাত্র ছেলের মৃ’ত্যু’বা’র্ষি’কী উপলক্ষে এক দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি তার ছেলেকে সরণ করে বেশ কিছু কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সৈয়দা আরজুমান নার্গিস দম্পতির একমাত্র ছেলে সায়াম-উর-রহমান সায়েমের নবম মৃ’ত্যু’বার্ষিকী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর)।

গত বছর সায়াম-উর-রহমানের অষ্টম মৃ’ত্যু’বার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থীতিতে ধানমন্ডিস্থ নানকের বাসভবনে দোয়া ও মাহফিল হলেও এবার মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে পারিবারিকভাবে বাদ আছর কোরআন খতম ও বাদ মাগরিব পারিবারিকভাবে সীমিত পরিসরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও বনানী কবরস্থান মসজিদে বাদ আসর মিলাদ দোয়া ও তবারক বিতরণসহ মোহাম্মদপুর আদাবর শেরেবাংলা নগর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বরিশালে বাদ জোহর ভার্চুয়াল আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকটি বিবেচনা করে মরহুমের শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে একমাত্র পুত্রের আত্মার মাগফেরাত কামনায় অংশ নিতে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সৈয়দা আরজুমান নার্গিস।

২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের কাছে সড়ক দু’র্ঘটনায় নি’হ’ত হন সায়েম। বিয়ের মাত্র দুবছরের মাথায় স্বামীকে হারান সায়েমের স্ত্রী আনিকা রহমান, বাবাকে হারান মেয়ে মেহরিশ রহমান। স্বামী হারানোর শোক-ব্যথার স্মৃতি আঁকড়িয়ে জীবন সংগ্রামে শ্বশুর-শাশুড়ির আদর স্নেহ ভালবাসার পরশ নিয়ে জীবনের পথ বেঁয়ে চলছেন তিনি।

সেপ্টেম্বর মাস আসলেই পুত্র হারানোর বেদনা বেশি করে মনে করিয়ে দেয় জাহাঙ্গীর কবির নানককে। প্রতিবার ছেলের মৃ’ত্যু’র সময়টার আগে-পরে শোক ব্যাথায় বোঁবাকান্নায় চোখ বুজে স্মৃতি হাতড়ান নানক দম্পতি। একমাত্র পুত্র সন্তান হা’রানোর স্মৃতিময় বেদনার কথা স্মরণ করে নানক বলেন, আজকের দিনটি এলে আপনারা খবর নেন মিলাদ এবং দোয়া মাহফিলল কোথায় হবে? আমি কি বলবো, আমি ব্যাথতুর মানুষ। আমি এক বুক জ্বালা-কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। সূত্র:পূর্বপশ্চিমবিডি

এদিকে, করোনা ভাইরাসের কারণে এবার সীমিত আকার দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এই দিনটি আসলেই জাহাঙ্গীর কবির নানক অনেকটা ভে’ঙে পড়েন। তার ছেলের সাথে কাটানো সময় তার মনে পরে। আর বাবার চলে যাওয়ার আগে ছেলের চলে যাওয়াটা কতটা কষ্টের তা একমাত্র সেই বাবাই জানেন। আর আজ ঠিক তেমনি জাহাঙ্গীর কবির নানক অনেকটা কষ্টের মধ্যে দিন পাড় করেন।