গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ কানাডায় যাওয়ার পর থেকে তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা দেখা দিয়েছে। মূলত, করোনা ভাইরাসের মধ্যে তিনি হঠাৎ করে কেন কানাডায় গেলেন এই প্রশ্ন দেখা দেয়। এছাড়া দেশের করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি ভালো না থাকার পর এই ক্ষমতাসীন দলের নেতা কেন দেশ ত্যাগ করলে তা নিয়েও বেশ আলোচনা চলছে। তবে তিনি কানাডায় যাওয়ার পর কয়েকবার দেশের গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন। আর এবার আবারও তিনি কানাডায় যাওয়ার সম্পর্কে দেশের একটি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন। এই ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবার নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।


’আমার পরিবারের কোনো সদস্যই কেউ কানাডিয়ান নয়। কানাডায় এসেছি পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য। আমি কূটনৈতিক পাসপোর্টে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে এসেছি। এতে অস্বচ্ছতার কিছু নাই।’

২৮ জুন দুপুরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ গণমাধ্যমের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপকালে একথা বলেন। সূত্র:ইত্তেফাক

কোনো কোনো গণমাধ্যম প্রশ্ন তুলেছে, কিভাবে এলেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বড় ভাই পঞ্চাশ বছর ধরে কানাডায়, এছাড়াও দুই বোনসহ অনেক আত্মীয়স্বজন থাকেন। তারা কানাডিয়ান। আর টরন্টোতে আমার দুই ছেলে ফাহিম ও ফারহান এবং মেয়ে তানিসা ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে পড়াশোনা করে। তাদের দেখতে এসে আমার স্ত্রী ফৌজিয়া আলম কারোনার কারণে আটকা পড়েছেন। তিনি অসুস্থ। থাইরো জনিত সমস্যা। ২৯ জুন তার অপারেশন এর ব্যাপারে সিদ্ধান্তে জানাবেন চিকিৎসক। তাই ১৯ জুন কাতার এয়ারওয়েজে মন্ট্রিয়াল হয়ে টরোন্টো এসেছি।

হানিফ আরো পাল্টা প্রশ্ন করেন, কানাডায় বিদেশি নাগরিকদের আসা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আমাদের সাথে বাংলাদেশিসহ আরো বিদেশিরা কিভাবে এলেন? আমি প্রথমে মন্ট্রিয়ল হয়ে ডমেস্টিক ফ্লাইডে টরন্টো আসলাম। আমি নীতি বহিঃর্ভূত এলে তো ইমিগ্রশন আমাকেসহ কাউকেই তো ঢুকতেই দিতোনা।

ঢাকার একটি দৈনিক ঈশারা-ইঙ্গিতে উদ্ভট খবর পরিবেশন করে যে বিভ্রান্ত তৈরি করতে চাচ্ছেন, সে ব্যাপারে তারা ঢাকাস্থ কানাডিয়ান দূতাবাস, মন্ট্রিয়ল-টরন্টো ইমিশ্রেন কিংবা কাতার এয়ার লাইন্সের কমার্শিয়াল ফ্লাইটে অনুসন্ধান করে বিস্তারিত জানতে পারেন।

মাহবুব উল আলম হানিফের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে ৮ জুন কানাডায় বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর তাঁর ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে বাবার সঙ্গে মিলিত হবার জন্য কানাডার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে। সেই আবেদন ও মঞ্জুর হয়। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও চালু হয়। সে প্রক্ষিতেই তিনি কানাডায় আসেন।

তিনি বলেন, আসলে তারা আমার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সব সময় এ ধরণের নেতিবাচক কার্যত্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমি নিয়মনীতি মেনে দলনেত্রীকে অবগত করে এসেছি। আসার আগে পুরো করোনাকালে আমার নির্বাচনী এলাকা এবং জেলায় যথেষ্ট স্বাস্থ্যসেবার কাজ করে এসেছি। সেখানে ল্যাব স্থাপন করেছি। দফায় দফায় কুষ্টিয়াতে গিয়েছি, পর্যাপ্ত খাদ্য বিতরন করেছি। জেলার প্রশাসন জন প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে সমন্বয় করে এসেছি এবং এখান থেকেও নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। একটু পরই কুষ্টিয়ায় মেডিক্যাল সেন্টারের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবো।

নন কানাডিয়ানেরা কি কানাডায় চিকিৎসা করাতে পারে? এই প্রশ্নের জবাব্‌ কেনো পারবেনা। সব দেশেই ভিসা নেয়ার আগে হেলথ ইন্স্যুরেস নিতে হয়। যা, ভিজিটরেরা অসুস্থ হলে সেই খাত থেকে চিকিৎসা করা হয়।

তিনি বলেন, ’বেগম পাড়া’ শব্দটি অত্যন্ত নেতিবাচক এবং অপ্রাসঙ্গিক ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, ২০০৬ সালে বিএনপি সমর্থিত অনেক ব্যবসায়ী এখানে বাড়ি কিনে বসবাস শুরু করার পর বেগম পাড়া হিসাবে কথার প্রচলন হয়। কিন্তু আমি দৃঢ়তার সাথে জানাচ্ছি, কানাডায় আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। তা যাছাই করার জন্য বেশি দূর যাবার দরকার নেই; যে কোনো সংশিষ্ট অথোরিটির মাধ্যমে খোঁজ নিতে পারেন।

এই নেতা আরও বলেন, মার বিরুদ্ধে অনেকে ষড়যন্ত্র করছে আর এ কারণে অনেকে নানা রকম বিভ্রান্তকর সংবাদ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন আমি অতি শীঘ্রই দেশ ফিরে আসবো। বর্তমানে তিনি কোয়ারেন্টিনে আছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া কানাডায় তার স্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। আর সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে দেশের ফেরার সম্ভাবনা বেশ রয়েছে। তবে এখনো তাকে নিয়ে নানা রকম বিভ্রান্তিকর সংবাদ করা হচ্ছে বলে জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা।