গত কয়েকদিন আগে দেশের এক এমপি কুয়েতে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। এই এমপি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে একের পর এক নতুন তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। এদিকে, এই এমপি কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার পর সেই দেশে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি তার বিরুদ্ধে শাক্ষী দিয়েছে। এছাড়া এই এপমির বিরুদ্ধে কুয়েতে অভিযোগ উঠছে তিনি নাকি সেই দেশে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছেন। এছাড়া দেশেও এই এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। ইতিমধ্যে দুদক তার পরিবার থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। আর এবার এই এমপির বিরুদ্ধে বেড়িয়ে এলো নতুন তথ্য।


কুয়েতে মানবপাচার এবং প্রবাসীদের উপার্জনের টাকা কৌশলে হা’তিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন জালিয়াতি ও ভিসা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল ও তাঁর পরিবার। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে যু’’দ্ধা’পরাধী মীর কাসেম আলীর সঙ্গে পাপুলের ছিল গো’পন ব্যবসায়িক কারবার। যু’দ্ধা’প’রাধের অভিযোগে মৃ’’ত্যুদণ্ডের পর মীর কাসেমের ব্যাবসায়িক কয়েক শ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন পাপুল। প্রাথমিক তদন্তে পাপুল, তাঁর স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ও শ্যালিকার নামে সম্পদের একাধিক তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধান দল। সূত্র: কালের কণ্ঠ

এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত চেয়ে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার দেশত্যাগেনিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছে দুদকের অনুসন্ধান দল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সকালে পাপুল ও তাঁর স্ত্রী সেলিনার নির্বাচনী হলফনামা পেতে নির্বাচন কমিশনে তাগিদপত্র দিয়েছে দুদক। ওই দিনই অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে এনবিআরের কাছে পাপুল দম্পতি ও তাঁর শ্যালিকার আয়করের নথিপত্র চেয়েছে সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আয়কর নথিপত্রের জন্য বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এনবিআরের কর অঞ্চল-৫ ও কর অঞ্চল-১৩-এর ডেপুটি কমিশনার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। এনবিআরে দেওয়া চিঠিতে পাপুল, স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিনের গত তিন অর্থবছরের আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও দুদক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাপুল দম্পতির নির্বাচনী হলফনামা চেয়ে তাগিদপত্র দিয়েছে গত মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে। এর আগে গত ১৬ মার্চ নির্বাচনে পাপুল ও তাঁর স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকা পাওয়ার সম্ভাব্য উৎসর বিবরণী, সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের বিবরণী, দাখিল করা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ অন্যান্য রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, দুদকের প্রাথমিক তদন্তে এমপি পাপুলসহ তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। ওই সব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সে বিষয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য-প্রমাণও মিলেছে।

এদিকে জামশেদ কবীর বাকি বিল্লাহ, নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, সালাহউদ্দিন টিপু ও আরিফ নামে পাপুল দম্পতির চার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সম্পদের হিসাব পেতে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে চিঠি দিয়েছে দুদক।

কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মানব, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত এমন কয়েক শ ব্যক্তির তালিকা করেছে কুয়েত সরকার। সেই তালিকা ধরেই সম্প্রতি বিতর্কিত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশের এমপি পাপুল।

মানবপাচারকারীদের নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের ’মানবপাচারচক্রের’ সঙ্গে জড়িতদের নাম পেয়েছেন কুয়েতের তদন্তকারীরা। কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ গত বুধবার এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি মানবপাচারচক্রের বিরুদ্ধে হুঁ’শিয়ারি দেন। এদিকে পাপুলের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে গত বুধবার কুয়েতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এমপি পাপুল কিভাবে কুয়েতে ঢুকেছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ওই দেশটির সংসদে।

কুয়েতের দৈনিক আল রাই পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাপুলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেওয়া ব্যক্তিরা তাঁকে ’মা’ফিয়া বস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গরিব ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা পাপুলকে ’কর’ (চাঁদা) দিতে বাধ্য হতেন।


এদিকে, দিন যতই যাচ্ছে এই এমপির বিরুদ্ধে ততই নানা রকম অভিযোগ উঠ আসছে। তবে গত বছর এই এমপির বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ উঠে ছিল।কিন্তু সেই সময় তিনি তার বিরুদ্ধে আসা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি তখন বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে কিছু লোক নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে। আর এরপর তিনি যখন কুয়েতে যান সেখানে বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দেশেও এই এমপির বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। আর ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।