বাংলাদেশের রাজনীতি এখন অনেকটা ঠান্ডা রাজনীতিতে পরিনত হয়েছে বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন। ক্ষমতাসীন দল ছাড়া অন্য যে সকল দল রয়েছে তারা বর্তমান সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে সাধারন মানুষকে অনেকটা সরকার বিমুখ করতে চাইছেন। যার প্রেক্ষিতে বিরোধী দলসহ অন্য যে সকল রাজনৈতিক দল রয়েছে তারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের সমালোচনা শুরুও করেছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের করা মন্তব্যের পর বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাঁকে উদ্দেশ্যে করে বিভিন্ন কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ’আন্দোলন বিএনপি করার আগেই তো আপনারা ভয় পেয়ে গেছেন। কখন কি হবে বুঝতে পারছেন না?’

বিএনপির কর্মীদেরকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই মন্তব্য করে আব্বাস বলেন, ’আমাদের আলাল সাহেব (মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল) তথ্য দিলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখন মামলার সংখ্যা ২৬ লক্ষ নয়, ৩৫ লক্ষ। অর্থাৎ আমাদের ৩৫ লক্ষ নেতাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের বাবা-মা, ভাই-বোনেরাও রয়েছেন। সুতরাং আওয়ামী লীগের সতর্ক হওয়া উচিত। বাংলাদেশের কোটি কোটি বিএনপির সমর্থক এবং জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে।’

সোমবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বরিশাল গৌরনদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

’আন্দোলনের নামে অরাজনৈতিকভাবে সহিংসতার পথে গেলে বিএনপিকে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ’আন্দোলন বিএনপি করার আগেই তো আপনারা ভয় পেয়ে গেছেন, গ্রেফতার করা শুরু করে দিয়েছেন। আপনারা যে দাঁতভাঙা জবাব দেবেন আপনাদের কি কামড় দেয়ার সেই দাঁতগুলো আছে? আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে দিতে চাই- আওয়ামী লীগের ছোট্ট একটি মটরশুটি কামড় দেয়ার যোগ্যতাও নাই এখন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ’আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনী পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি ছাড়া এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার ক্ষমতা নেই তাদের। পেটোয়া বাহিনী দিয়ে ক্ষমতায় থাকার ক্ষমতাও ফুরিয়ে আসছে। অতএব বেশি কথা বলা ঠিক নয় কাদের সাহেব। গ্রেফতারের ভয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা গর্তে লুকিয়ে থাকে না। আমাদের ভয়ের কিছু নাই।’

আব্বাস বলেন, ’দল দিয়ে দলের ইমেজে টিকে থাকবে সেই আওয়ামী লীগ এখন আর নেই। শেখ মুজিবের আমলে যে আওয়ামী ছিল সেই আওয়ামী লীগের কথা এখন আপনারা ভুলে যান, সেই আওয়ামী লীগকে আপনারা অনেক আগেই কবর দিয়ে দিয়েছেন। সেই আওয়ামী লীগকে আজকের আওয়ামী লীগ খেয়ে ফেলেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ’খালেদা জিয়া গুরুত্বর অসুস্থ। তাঁর সাথে এখন আর দেখা করতেও দেয়া হচ্ছে না। সন্দেহ হচ্ছে, তাঁর ক্ষতি করার জন্য চিকিৎসার নামে তাঁকে অপচিকিৎসা করা হচ্ছে কি না। খালেদা জিয়ার ক্ষতি হলে সেই হিসাব জনগণ পাই পাই করে নেবে।’

তিনি সুপ্রিম কোর্টে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার সঠিক তথ্য তুলে ধরতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান।

এসময় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী ও কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা-৬ এর সংসদ সদস্য এবং খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় আবাসন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ছিলেন। মির্জা আব্বাস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।

বাণিজ্য বিভাগ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পর আব্বাস মির্জা এন্টারপ্রাইজ নামে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা শুরু করেন। মির্জা আব্বাস ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। আব্বাস তাদের মধ্যে রয়েছেন যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে কাজ করেছিলেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সাথে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দলীয় প্রধানের কাছে অভিযোগ করার কারণে তিনি দলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ভূমিকার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে হুসেন মোহাম্মদ এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মির্জা আব্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।