বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারাগারে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি এবং তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন সবসময়। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও জানান, সরকার যদি অসুস্থ খালেদা জিয়া ও অন্যান্য রাজবন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি না দেয় তবে তারা আন্দোলন তীব্রতর করবে। এদিকে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের করুণায় প্যারোলে চান না। তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি চান।
আবার বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা বলছেন খালেদা জিয়াকে তার লোকদের থেকে দূরে রাখতে সরকার কারাগারে বন্দি রেখে দিয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য মোট ৩৭ টি মামলা করা হয়েছে। এ রকমই চলছে বিএনপি নেতা কর্মীদের অভিযোগ। এবার খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালানোর কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সংসদ ও বিচার বিভাগ সরকারের দখলে। তাই ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন হবে কি-না, তা একমাত্র সরকারই জানে। আইনের প্রয়োগে নয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি হচ্ছে না রাজনৈতিক কারণে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে।

রোববার (০১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা ও দোয়ার পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, আমরা দুঃখ পাই যখন দেখি সাদেক হোসেন খোকার মতো মুক্তিযোদ্ধা দেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেন না। আমরা দুঃখ পাই ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের মতো মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া দেখে। তাহলে এ দেশের মানুষ কী এই প্রশ্ন করতে পারে না যে, এই দেশ যদি মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ হয়ে থাকে, তাহলে তাদের ওপরে চরম নির্যাতন কেন?

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা অনেক বড়াই করে বলি। তবে এটা বড় কথা নয়, মুখে কে কি বললো। এই সরকারের সময় সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের যখন অবমাননা হয়, তখন প্রশ্ন জাগে এই সরকার সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কি-না।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য এদেশের লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিল। আমরা জানি যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলে দাবি করে সেই তারা ছিল পলায়নপর শক্তি। তারা সাহস করে সামনে এসে যুদ্ধ করতে পারেনি। কিন্তু দেশের মানুষ জিয়াউর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে নেমে এসেছিল। দ্বিতীয় বিষয় ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। সরকার বড়াই করে বলে তারা না-কি ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু তারা এটা বলে না বিশ্বের নামি-দামি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলে দিয়েছে বিশ্বের যে পাঁচটি দেশে ধনী-গরিবের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ স্থানে। যে দেশে ধনী-গরিবের ব্যবধান সর্বোচ্চ হারে বাড়তে পারে, সেদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি কিভাবে হলো?

খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দাবি করে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, আমরা জানি এটা রাজনৈতিক মামলা। রাজনৈতিক মামলায় খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ৩০০ সিটের মধ্যে ২৯২ সিট দখল করা যায়। কিন্তু জনগণের ভালবাসা পাওয়া যায় না।

আগামী ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন না হলে বিএনপির কর্মসূচি কী হবে জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, বিএনপির কর্মসূচি স্পষ্ট। বিএনপি গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ রাজনীতি ও জনগণের কল্যাণে বিশ্বাসী। আমরা মানুষের কল্যাণে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করে যাব, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশনেত্রীর মুক্তি না হয়।

উল্লেখ্য, ড. আব্দুল মঈন খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি দলের বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়ে তথ্যমন্ত্রী এবং ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. আব্দুল মঈন খান এর পিতা আবদুল মোমেন খান, যিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) এর একজন রাজনীতিবিদ ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী। মঈন খান সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।