নেপালের কাঠমাণ্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত-আহতের ব্যাপারে জানতে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালসহ সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তবে, বিপত্তি ঘটল নেপালের আকাশে ঢুকার পর। অবতরণের অনুমতি না পেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা নেপালের আকাশে ঘুরতে হয়েছে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটিকে। এরপর গিয়ে অবতরণ করে বিমানটি।

আকাশে থাকা অবস্থায় বিমানের পাইলট বলেন, ’মাননীয় মন্ত্রী, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আমরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি। তবে আমাদের এখনও ল্যান্ডিং টাইম (অবতরণের সময়) দেয়া হয়নি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অতিরিক্ত ফ্লাই করে বিমানবন্দরে ল্যান্ড করতে পারব। সোমবার ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।’

বিমান দুর্ঘটনার পরের দিনের ফ্লাইটে এমন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা যায়। ওই ঘোষণার ১০ মিনিট পর আসে আরেকটি ঘোষণা। এবার পাইলট বলেন, ’মাননীয় মন্ত্রী, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আমরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি এবং ল্যান্ডিং টাইম পেয়েছি। আমাদের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে অবতরণের কথা থাকলেও অবতরণে সময় দেয়া হয়েছে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট। আশা করছি ১টা ৫০ অথবা দুপুর ২টার মধ্যে আমরা নিরাপদে কাঠমান্ডুতে অবতরণ করব।’

অবশেষে নেপালের আকাশে এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৭ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে ত্রিভূবনে অবতরণ করে। দেড় ঘণ্টার ফ্লাইট বিজি-০০৭১ নেপালে পৌঁছায় আড়াই ঘণ্টায়।

অন বোর্ড ইনফরমেশন অনুসারে, বিমান মন্ত্রীসহ বিজি ০০৭১ ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে অবতরনের জন্য ত্রিভুবন বিমানবন্দরের আকাশে পৌঁছায়। গন্তব্যস্থল থেকে মাত্র ৪৯ মাইল দুরত্বে থাকাকালীন ফ্লাইট এট্যান্ডেন্ট নুসরাত জানান, কাঠমান্ডুরর আকাশে ঝলমলে রোদ। কিন্তু ট্রাফিক কিউ থাকায় আমাদের ৩০ মিনিট পর বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে আবার কন্ট্রোল টাওয়ারের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো ৩০ মিনিট অর্থাৎ এক ঘন্টা পর অবতরণের কথা জানান ফ্লাইটের কো-পাইলট।

এরপর হিমালয় পাদদেশের আকাশে ঘুরতে থাকে বিমানটি। মিনিট দশেক পর আকাশে ঘুরতে থাকা বিমানটি উঠে যায় ২৫ হাজার ফুট উপরে। ঘুরতে থাকেন ৫ হাজার, ১২ হাজার ১৮ হাজার ফুটচ্চতায়। আধাঘন্টা পর তিন দফায় ঝাকুনি খায় বিমান। ফ্লাইট এটেন্ডের মাথায় এসে পড়ে আরেক যাত্রীর পানির বোতল। এরপর বিমানটি অবতরণ করে।

প্রসঙ্গত, গতকাল দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস২১১ ফ্লাইটটি। এতে ৫০ জনের মতো মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত ৪১জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের ড্যাশ প্লেনটিতে পাইলট-ক্রুসহ মোট ৭১ জন আরোহী ছিলেন।

সূত্র:এমটিনিউজ

News Page Below Ad