কারাগারে থাকা বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা সমঝোতা প্রস্তাব দেয়ার খবরকে হাস্যকর বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসব খবর সাংবাদিকরা কোথায় পান, সেটাও জানতে চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মুক্তির দাবিতে এই সভার আয়োজন করে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে বিএনপিকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ৭ মার্চ কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান মির্জা ফখরুলসহ দলের সাত নেতা।

এ সময় খালেদা জিয়াকে বাইরে চলে যাওয়া, তার পরিবারের কারও নির্বাচনে অংশ না নেয়া, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপির ভোটে যাওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব দেন ফখরুল।

ওই পত্রিকার ভাষ্যমতে, এ বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে খালেদা জিয়ার জামিনে সরকার বাধা দেবে না, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা স্থগিত থাকা, খালেদা জিয়ার সব মামলায় সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলেও মির্জা ফখরুল বলেন।

এই খবরটিকে হাস্যকর বলেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ’পত্র পত্রিকাতে খবর দেখি আমরা নাকি কারাগারে সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে গেছি। হাসি পায়। আপনারা কোথায় পান এমন তথ্য?’

তিনি এসময় অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখতে সরকার ছল চাতুরি করছে। ফখরুল আরো বলেন, ’সরকার ছলছাতুরি করে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখতে চায়। কিসের ভয়? জনগণকে এত ভয় পান আপনারা (সরকার)! তিনি যদি মুক্তি পান তাহলে জনগণের স্রোতে আপনাদের ক্ষমতার মসনদ ভেসে যাবে।’

সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট বিএনপি চেয়ারপারসনকে চার মাসে জন্য জামিন দেয়ার দিনই কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ এসেছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার হাইকোর্টের জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদক।

তবে খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি বিএনপি মহাসচিব বলেন, ’আইনি প্রক্রিয়া এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা হবে।’

বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাবে জানিয়ে ফখরুল বলেন, ’এটাই একমাত্র পথ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে। এভাবেই জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে হবে।’

নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি জাকিরকে গত ৬ই মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই মারা যান তিনি।

এই ছাত্রদল নেতাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ’এমন অনেক জাকিরকে আমরা হারিয়েছি। তাদের অপরাধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা।’

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমিরকে গ্রেপ্তারেরও নিন্দা জানান ফখরুল। তিনি বলেন, ’পত্রিকাতে দেখলাম রাজশাহীতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমানসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করছি।’

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব। সেই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

বিএনপি নেতা গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক সুকুমল বড়ুয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় প্রমুখ।
সূত্র:এমটিনিউজ

News Page Below Ad