প্রথম ’মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়েছিলেন জান্নাতুল নাঈম। চীনে অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মূল আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল তার। জমকালো পরিসরে ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে পর্দা ওঠে লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ, ২০১৭-এর গ্র্যান্ড ফিনালের। ২৫ হাজার প্রতিযোগী থেকে সেরা তিনজন বাছাই করেন বিচারকরা।
প্রশ্ন: বিয়ে কোথায় হয়েছিল?

মনজুর উদ্দিন রানা: ওর বাবা বলেছিল ছয়মাস পরে বিয়ে করার জন্য। এর আগেই করেছি। বরকল ব্রিজের পাশে সুনাইরা কমিউনিটি সেন্টারে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ে করতে চেয়েছিলাম আরো দুই মাস পরে। কিন্তু বিয়ের তারিখ ও নিজেই দিয়েছে।

প্রশ্ন: জান্নাতুল নাঈম বলেছে তার বাবা সিঙ্গাপুর থাকে, এ বিষয়ে আপনি কতটুকু জানেন?

মনজুর উদ্দিন রানা: আমি একটা মোটরসাইকেল চালাই। ও ফ্রারাডো চালাতে পারে। আমরা দুই ভাই চার বোন। আমাদের পরিবার ঐতিহ্যবাহী পরিবার। পারিবারিক সূত্রেই আমরা ব্যবসা বাণিজ্য করি। সৎভাবে চলি। কারো সঙ্গে মিথ্যার আশ্রয় নিই না। ও এখন মিথ্যে বলে বেড়াচ্ছে। ওর বাবা সিঙ্গাপুরে থাকে। এসব ঠিক না। ওর বাবা একজন সাধারণ মানুষ। এলাকায় থাকে।

প্রশ্ন: জান্নাতুল নাঈম আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে, আপনার খারাপ লাগেনি? আপনি কোন ব্যবস্থা নেননি?

মনজুর উদ্দিন রানা: ও যাওয়ার পর আমি আফসোস করেছি। যাছাই-বাছাই না করে কি করলাম। তবে এখন আমি ভালো আছি। আমি ফ্রেশ মানুষ। আমার ক্ষতি করে সে চলে গেছে। আমার জীবন নষ্ট করে দিয়ে সে চলে গেছে। আমি কিন্তু ওর বিরুদ্ধে কিছুই বলিনি। আমি আল্লাহর কাছে বলি ও যেখানে গেছে সুখে থাকুক শান্তিতে থাকুক। যেন কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত না থাকুক। তার বাবা মায়ের সঙ্গে থেকে যেন ভালো থাকে। সে তো আমার দুই মাসের জন্য হলেও স্ত্রী ছিল। এলাকায় এখনও মানুষ বলে ওটা মনজুরের বউ। ওর এলাকার মানুষও আমাকে অনেক সম্মান করে। সে আমার জীবন থেকে চলে গেছে তাকে নিয়ে এখন আর আমি ভাবি না। তবে তাকে আমি এখনও ভালোবাসি। তাই সে যেখানে গিয়ে সুখ পায়, শান্তি পায় সেখানে থাক। তবে তাকে নিয়ে আমি আর কখনো সংসার করবো না। সে অন্য জগতে চলে গেছে। সে একদিনের জন্য হলেও আমার বউ ছিল, ঘুমিয়েছে, খেয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার সাবেক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম এখন ’মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’। আপনার অনুভূতি কী?

মনজুর উদ্দিন রানা: আমি সহজসরলভাবে জীবনযাপন করি। তবে আমার কাছে সুখ আছে। ওর সঙ্গে আমার এখন কিছু নাই। আমি ওকে ডিভোর্স দিয়েছি। ও আমার কিছু না। ও পাপ করলেও আমার কিছু যায় আসে না। ও বিশ্বসুন্দরী, প্রতি মাসে দশ বিশ লাখ টাকা ইনকাম করুক। আমার কাছে কিছুই না। আমি আমার পরিশ্রমের ঘামের ফোটা দিয়ে যেই টাকা ইনকাম করবো তা অনেক। তার দশ কোটি টাকা আর আমার এক টাকা সমান। আমি চেয়েছিলাম ওকে নিয়ে সাংসারিক জীবনটা সুন্দর করে কাটিয়ে দেব। কিন্তু তা সে গ্রহণ করতে পারেনি।


প্রশ্ন: আপনাদের ২ মাসের দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি কী?

মনজুর উদ্দিন রানা: ও যখন চলে যায় তখন সে দুই মাসের প্রেগনেট ছিল। সে বলেছে আমাকে ’আপনার বাচ্চা হচ্ছে’ বাচ্চার নাম কি রাখবো তা নিয়েও সে ঠিক করেছিল। আমাকে দুটো আঙুল দিয়ে বললো ধরতে, ’ছেলে না মেয়ে হবে।’ আমি ধরেছি। সে বলল ’ছেলে হবে।’। দুই মাস আমরা সংসার করি। আমি তার বিরুদ্ধে কোনো অপবাদ দেব না।

প্রশ্ন: আমেনা আপনাকে ছেড়ে কাউকে কিছু না বলে কেন, কীভাবে পালিয়ে গেল?

মনজুর উদ্দিন রানা: আমি জামেয়া আহলাদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছি। দাখিল পরীক্ষা দিতে পারিনি। আমি যখন বিয়ে করি তখন সে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছিল। রেজাল্ট দেয়নি। বিয়ের পর রেজাল্ট দেয়। সে ৪.৪৪ পায়। আমি বলেছিলাম মহিলা কলেজে ভর্তি করে দেব। তার সঙ্গে আমার কখনো ঝগড়া হয়নি। বিয়ের দুই মাস পর।

তার বাবাকে বলেছিলাম আমরা একশ মানুষ আসবো। ঘরবাড়ি সাজিয়ে ভালো করে রাখবেন। ওদের ভালোভাবে আপ্যায়ন করতে হবে। আমরা যাওয়ার তিনদিন আগে তার বাবা আমাকে ফোন দিয়ে জানালো আমেনাকে পাচ্ছি না। সে কী কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে তা জানি না। তার কি কোনো মাথায় সমস্যা আছে? তাও বুঝতে পারছি না। এত ভালভাবে বাড়িতে থেকেও কেন চলে গেল। সে তো সাধারণ পরিবারের সন্তান। ওর চেহারা ছাড়া আর কিছুই নাই।

অবশ্য বিয়ের আগে আমাকে একটা লোক ফোন দিয়েছিল। সে বলেছিল তার সঙ্গে নাঈমের সম্পর্ক আছে। তখন আমি তাকে বলেছিলাম আপনি ফোন দিয়েছেন ভাল হয়েছে। আমি এখনও তাকে বিয়ে করিনি। কেবল আঙটি পরিয়েছি। যদি আপনার সঙ্গে সম্পর্ক থাকে আমি ওকে বিয়ে করবো না। তখন জান্নাতের ভাইয়ের মোবাইলে ফোন দিয়ে জান্নাতের সঙ্গে কথা বলি, তাকে জিজ্ঞেস করি ওই ছেলের কথা, সে বলে, না সম্পর্ক নাই। আমাকে তো অনেকেই পছন্দ করে সেরকম। তখন আমি বলেছিলাম ওর সঙ্গে যদি তোমার সম্পর্ক থাকে তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করবো না। ওকেই তুমি বিয়ে করো। আমি সহযোগিতা করবো।

প্রশ্ন: আমেনা চলে যাওয়ার পর আপনার সাথে আর যোগাযোগ হয়নি? ডিভোর্সের পর কাকে বিয়ে করেছেন?

প্রশ্ন: একবার সে আমার ফেসবুকে ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল, আমি তাকে দেখে খারাপ লেগেছিল তাই তাকে ব্লক করে দিয়েছি। আমাদের টাকা পয়সার দরকার নাই। সাংসারিক সুখের জন্য তাকে এনেছিলাম। ও নরমাল ফ্যামিলির মেয়ে। ওর মা বাবা অনেক ভাল মানুষ। আমি আর বিয়ে করিনি। মাঝে মাঝে সে আমাকে মিস কল দিত। পরে শুনেছি সে চিটাগাং শহরে আছে।’ আমার জন্য মানসম্মান বড়। আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। আমার জন্য অনেক মানুষ কেঁদেছে।