শারমিন জাহান। সফল পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমানে সিঅাইডির সদর দফতরে সহকারী পুুলিশ সুপার (এএসপি) পদে কর্মরত অাছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা হয় তার। কথায় কথায় তিনি জানিয়েছেন তার উঠে অাসার গল্প, চাকরি জীবনের বাস্তবতাসহ বিভিন্ন বিষয়।
কথার শুরুতেই শারমিন জাহান বললেন, \’অামি প্রথমেই বলি অামার বাবা যদি আমাকে সাপোর্ট না দিত, মাথার ওপরে ছায়া দিয়ে না নিয়ে আসত, তাহলে অামি কখনই এতদূর অাসতে পারতাম না। অামি জীবনে যা কিছু করেছি, সব অামার বাবার অনুপ্রেরণায়।\’

\’পড়াশোনা শুরু ভিকারুননিসায়। সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করি। এরপর কলেজে মানবিক বিভাগ নিয়ে পাস করি। অার ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই ইংরেজি সাহিত্যে।\’

শারমিন জাহান।

\’বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফাইনাল পরীক্ষার সময় অামার পক্স (বসন্ত রোগ) হয়েছিল। সারা গায়ে পক্স নিয়ে আমি পরীক্ষা দিয়েছি। সে সময়েও অামার বাবা অনেক সাপোর্ট করেছে। অামাকে পরীক্ষার হলে দিয়ে বাইরে বসে থাকত,\’ বলেন শারমিন।

চাকরির শুরুর দিকের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, \’এত অসুু্স্থ থাকার পরেও অনার্সে ১৫৫ জনের মধ্যে ২৪তম হয়েছিলাম। এরপর ৩০তম বিসিএসে পোস্টাল ক্যাডারে ফার্স্ট হলাম। এরপর ২০১৩ সালে ৩১তম বিসিএস থেকে অামি পুুলিশে যোগদান করেছি। কিন্তু অামার পেটে তখন বাবু। এজন্য আমি দেড় বছর পরে পরের ব্যাচের সাথে পুলিশের ট্রেনিং করি।\’

\’ট্রেনিং শেষ করে প্রথম প্রবেশন পিরিয়ড নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে। সেখানে ছয় মাস কাজ করার পরে বদলি হয়ে চলে অাসি সিঅাইডিতে। এখন সিঅাইডিই অামার কর্মস্থল।\’

পুলিশের চাকরিতে কেন অাসলেন? -জানতে চাইলে শারমিন বলেন, \’অামার বাবা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। মূলত বাবাকে দেখেই আমার সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অাগ্রহ জন্মেছে।\’

পুলিশের চাকরি করে পরিবার সামলাতে কোনো সমস্যা হয় কি না? -এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, \’সেটা অাসলে নিজের কাছে, কে কিভাবে সামলিয়ে নেবে। পুলিশের চাকরি, তাই অনেক সময় রাতেও অফিস করতে হয়। অাবার শুক্র, শনিবারও অফিস করতে হয়। কিন্তু অামি অামার পরিবারকে, অামার বাচ্চাকে সময় দেই। আমি বলতে পারি, একজন হাউজ ওয়াইফ বাচ্চাকে যতটুকু সময় দেয়, আমিও ঠিক ততটুকু দেবার চেষ্টা করি। কিভাবে দেই, সেটা আমি ম্যানেজ করে নিই।\’

\’অফিসের বাইরে অামি কোথাও গেলে কিংবা অফিসেও মাঝেমধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে যাই। কাজের ফাঁকে যদি ২ ঘণ্টা সময় পাই, তবে পার্লারে না গিয়ে বা শপিংয়ে না গিয়ে অামি বাচ্চাকে সময় দেই। বাচ্চাকে প্রচুর গল্পের বই পড়াই। অামার মনে হয়, একজন সরকারি অফিসার হিসেবে অামার যতটুকু দায়িত্ব, একজন মা হিসেবে তার চেয়ে বেশি দায়িত্ব।\’

পরিবার থেকে সহোযোগিতার বিষয়ে শারমিন জাহান বলেন, \’পরিবারে অামার বাবা-মা সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট করে অামাকে। বিশেষ করে অামার বাবা। অামার তিন ভাই ছিল তারা সবাই মারা গেছেন। অামি সকালে যখন অফিসের জন্য দৌড়াদৌড়ি করি, তখন অামার বাবা এসে অামার ছেলেকে জামাকাপড় পরিয়ে দেয়। কারণ আমি ছেলেকে স্কুলে দিয়ে অফিসে যাই।\’

কর্মস্থলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন কি না?

\’কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি। বরং অারো উল্টোটা হয়, অামার কর্মস্থল থেকে যতটুুকু সাপোর্ট পাওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি পাই। বিশেষ করে মোল্যা নজরুল ইসলাম স্যার অনেক সহোযোগিতা করেন। অামি তার অান্ডারে কাজ করি, একজন নারী অফিসার হিসেবে অামার কাজগুলি আমাকে বুঝিয়ে করিয়ে নেন,\’ বললেন শারমিন।

নারী দিবসে বাংলাদেশের নারীদের উদ্দেশ্যে শারমিন জাহান বলেন, \’নারীদের জন্য একটা জিনিস বলব প্রতেকটা মানুষকে অাগে নিজের অাইডেন্টিটি তৈরী করতে হবে। অামি কী, আমি ওমুকের মেয়ে, ওমুকের বোন, ওমুকের স্ত্রী, এটা কী? প্রত্যেক নারীকে আগে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে হবে।\’
সূত্র: প্রিয়.কম

News Page Below Ad