বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। বিএনপি নেতারা বলেন, বর্তমানে বেগম জিয়ার অবস্থা খুব খারাপ। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার ব্যবস্তা করতে বলেন বিএনপির নেতরা। এ জন্য বিএনপির নেত্রীকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানান বিএনপির নেতারা। তবে সরকারের অনেক নেতা বলেন, আইন আইনের গতিতে চলবে। তার জামিন কবে হবে তা আদালত জানাবে। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পিছিয়ে আগামী ৭ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও বেগম জিয়া শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

এর পর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত মামলাটির চার্জ গঠন শুনানির জন্য ৭ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এদিন বেগম জিয়ার আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জিয়া ও জয়নুল আবেদীন মেজবা চার্জ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক সময় আবেদন মঞ্জুর করে চার্জ গঠন শুনানির জন্য ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

গত ৫ নভেম্বর মামলাটির চার্জ গঠন শুনানির জন্য ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চার্জ গঠ শুনানির দিন ধার্য থাকলে সেদিনও বেগম জিয়ার অসুস্থতার কারণে তা পিছিয়ে ৫ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

পরে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

খালেদা জিয়ার ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন- সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

তবে বিএপির নেতারা বলেন, আমারা আমাদের নেতত্রীকে কারাগার থেকে অতি সিগ্রহি ছাড়িয়ে আনবো। বিএনপির নেতারা আরও বলেন, আমাদের নেতত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার কারাগারে রেখেছে। এটা পুরাপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলক মামলা। এদিকে গতকাল বিএনপির নেতা আব্দুল মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে কবে ছাড়া পাবে তা একমাত্র সরকারই জানে। তিনি আরও বলেন, সরকার চায় না বেগম জিয়া কারাগার থেকে ছাড়া পাক। বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বের করতে হলে আমাদের রাস্থায় নামা ছাড়া কোন উপায় নেই।