মহামারি করোনা ভাইরাস এখনো কমেনি বরং দিন দিন বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে অনেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আগের থেকে এই ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অনকটা কমে গেছে। আর এখন মানুষের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আসলে কি কি উপসর্গ হলে করোনা টেস্ট করা উচিত। তবে অনেক সময় সামান্য কিছু সমস্যা হলেই আগে অনেকে এই করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতেন। তবে এবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানালো আসলে কী কী উপসর্গ হলে করোনা টেস্ট করানো উচিত।

মহামারি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে সামান্য গা-গরম, একটু কাশি হলেই চেপে বসছে ভ’য়। আত’ঙ্ক ঘুম উড়ছে পাড়া-পড়শিদেরও। কিন্তু গা গরম বা সর্দি-কাশি হলেই তা করোনা নয়। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কী করে বুঝবেন আপনি করোনা আক্রান্ত কি না? কোন উপসর্গ দেখে করোনা পরীক্ষা করাবেন? এ নিয়ে মেডিকেল জার্নালে বিশেষ গাইডলাইনস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও।
ফ্রন্টনিয়ার্সের ’পাবলিক হেলথ’ মেডিকেল জার্নালে গবেষকরা বলেছেন, জ্বর বা সর্দি-কাশি মানেই ভাইরাসের সংক্রমণ নাও হতে পারে। মামুলি ভাইরাল জ্বর কিংবা ঠান্ডা লেগেও জ্বর আসতে পারে। বরং কয়েকটি উপসর্গ পরপর দেখা গেলে, তবেই করোনা পরীক্ষা করানো যেতে পারে। কী কী সেই উপসর্গ?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, করোনা সংক্রমণের প্রথম উপসর্গ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। সেখান থেকে জ্বর। আর জ্বরের সঙ্গেই সর্দি বা শুকনো কাশি। ক্রমাগত কাশি চলতেই থাকবে। সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হবে। বিশেষত পেশির ব্যথায় কাবু হবে রোগী। বমিভাব, ঝিমুনি একই সঙ্গে দেখা দেবে। কিছুদিন পর থেকেই হজমের সমস্যা শুরু হবে। পেট খারাপও হতে পারে রোগীর।
চিকিৎসরা জানাচ্ছেন, এইগুলো প্রাথমিক উপসর্গ। এই উপসর্গগুলো যদি টানা চলতে থাকে তাহলেই কোভিড টেস্ট করাতে হবে। সঠিক সময় চিকিৎসা না শুরু হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই তী/ব্র শ্বা/সকষ্ট দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে বু/কে ব্য/থা। ঠোঁট ও জিভে নীলচে ছোপ পড়তে পারে। অনেকেরই মুখের স্বাদ ও নাকের গন্ধ নেয়ার ক্ষমতা চলে যায়। সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী পিটার কুন জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই হাতের কনুই, আঙুল বা পায়ের আঙুল, গোড়ালিতে লালচে-বেগুনি র‌্যাশ হতে দেখা যায়। কখনো সেটা দগদগে ঘা হয়ে যায়। আবার কারোর কারোর এক সপ্তাহের মধ্যে সেই র‌্যাশ মিলিয়েও যায়। তাই এমন উপসর্গ দেখা গেলে সতর্ক হতে হবে। সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিলে অনেক রোগীরই চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাওয়া, ভুল বকা বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তীব্র মানসিক অবসাদ এমনকি ইনসোমেনিয়ারও দেখা দিতে পারে। তবে জ্বর মানেই করোনা নয়। তাই জ্বর হলে বাকি উপসর্গগুলোর দিকেও নজর রাখতে হবে। সূত্র:ঢাকাটাইমস

এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের থেকে অনেকটা কমে এসেছে। তবে অনেকে মনে করেন আগের মত এখন অনেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে আগ্রহ দেখায় না। যার কারণে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভাব হচ্ছে না। তবে এই ভাইরাসের কিছু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেড়ি না করে অবশ্যই নমুনা পরীক্ষা করার কথা বলা হচ্ছে। এতে করে তার থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকতে পারে।