করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি একেবারে খারাপ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দেশে নতুন করে হাজার হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে ও অনেকর প্রাণ যাচ্ছে। তবে এই করোনা ভাইরাস থেকে অনেক মানুষ বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছে। আর দেশে বর্তমানে একটি ওষুধ নিয়ে বেশ আলোচনা দেখা দিয়েছে। দেশের গবেষকরা দাবি করে আসছে এই ওষুধ এর মধ্যে অনেক করোনা রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে। এই কারণে বর্তমানে এই ওষুধটি নিয়ে দেশে বেশ আলোচনা চলেছে। আর এই ওষুধটি কম দামে পাওয়া যাবে বলে বলা হচ্ছে।


করোনাভাইরাস রোগীর চিকিৎসায় ’ফ্যাভিপিরাভির’ ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কার্যকর ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।
গত বুধবার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে এক সেমিনারে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহাযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ গোলাম মগ্নি মওলা।
সেখানে বলা হয়, ফ্যাভিপিরাভির ৫০ জন করোনা রোগীর ওপর ট্রায়াল করা হয়েছে। ওষুধ প্রয়োগের ৪ দিনের মাথায় ৪৮ শতাংশ এবং ১০ দিনের মাথায় ৯৬ শতাংশ করোনামুক্ত হয়েছেন।
করোনায় আশা জাগানিয়া রেমডেসিভিরের এই দুই জেনেরিক ভার্সন সিপ্রেমি ও কোভিফোরের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। এই দুই ওষুধের নির্মাতা সংস্থা সিপলা ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেটেরো ল্যাব দাম কমালেও একটি ভায়ালের (১০০ মিলিগ্রাম) দাম সেই পাঁচ থেকে ছ’হাজার রুপিরর মধ্যেই। করোনা ওষুধের এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে এবার ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু ওষুধের দাম কমাতে চলেছে মুম্বাইয়ের গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস।
জুন মাস থেকেই ভারতের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরাভিরের জেনেরিক ভার্সন ফ্যাবিফ্লু। গ্লেনমার্ক জানিয়েছিল ফ্যাভিফ্লু ওষুধের একটি ট্যাবলেটের দাম পড়বে ১০৩ রুপি। আজ, সোমবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২৭ শতাংশ দাম কমানো হচ্ছে ওষুধের। এখন ফ্যাভিপিরাভিরের এই ব্র্যান্ডের একটি ট্যাবলেটের দাম পড়বে মাত্র ৭৫ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৫ টাকা)।
গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অলোক মালিক জানিয়েছেন, ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের বিক্রি লাভজনক হয়েছে। ভারতের বাজারে এই ওষুধের চাহিদাও রয়েছে। তাই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের নির্মাতা জাপানি কোম্পানি ফুজিফিল্ম। সে দেশে এই ওষুধের ব্র্যান্ড নাম ’অ্যাভিগান’। তবে ফ্যাভিরাপিরাভির ওষুধের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু বানিয়েছে মুম্বাইয়ের গ্লেনমার্ক। এই ওষুধের মূল উপকরণগুলো গ্লেনমার্কই তৈরি করে। বিদেশ থেকে এই ওষুধ তৈরির কোনো উপকরণই আমদানি করার প্রয়োজন পড়ে না।
সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের কথায়, ’বিশ্বের অন্যান্য দেশে এখন ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ডের যা দাম তার থেকে অনেক কমে ভারতের বাজারে ওই ওষুধের ব্র্যান্ড এনেছি আমরা। এরপরেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায় সাধ্যের মধ্যে এই দাম পড়লে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।’
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের উদ্যোগে করোনার সলিডারিটি ট্রায়ালে ফ্যাভিপিরাভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছিল গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রথম দুই ট্রায়ালের রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ায় তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয় এই ওষুধের। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই করোনা চিকিৎসায় ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু প্রয়োগ করার ছাড়পত্র দেয় ইন্ডিয়ান ড্রাগ কন্ট্রোল। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার জানান, হয়েছে, মৃদু ও মাঝারি সংক্রমণের রোগীদের উপরেই জরুরি ভিত্তিতে ফ্যাভিপিরাভিরের থেরাপি করা যাবে।
গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর গ্লেন সালদানহা বলেছেন, ফ্যাবিফ্লু করোনা সংক্রমণ কমাতে পারবে। যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দেশে, এই ওষুধের প্রয়োগে কিছুটা হলেও তার রাশ টানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য ওয়াল।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন নতুন করে অনেকে করোনায় আক্রন্ত হচ্ছে ও অনেকে এই ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠছে। আর বিশ্ববাসী যখন করোনার টিকা এর জন্য অপেক্ষা করছে ঠিক এই সময় কিছু ওষুধ কোম্পানি করোনার ওষুধ তৈরি করার চেষ্টা করছে। আর ঠিক তেমনি দেশের এই ওষুধ কোম্পানি এই করোনার ওষুধ তৈরি করে তা পরীক্ষা করে দেখছে। আর গবেষকার দাবি করছে এই ওষুধ করোনা রোগীদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনছে।