বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ লোক প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে থাকে। তার মধ্যে বেশিরভাগ লোক বিদেশে যাতায়াত করে থাকে শ্রমিক হিসেবে। যারা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি সহয়তা করে থাকে। অনেকেই কাজের সুবাদে অবস্থান করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত কাতারেও। এই দেশটি হতে কর্মক্ষেত্র থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে দেশে বেড়াতে গিয়েছেন যাদের বেশিরভাগ বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতে আটকা পড়েছেন। এ সকল প্রবাসীরা তাদের ছুটি শেষ হবার পর কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ চাইছেন। তারা এই পরিস্থিতে কাতার সরকারের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন।
কুয়েতের মতো কাতার সরকারও প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এ সুযোগের ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছেন তারা। গত জানুয়ারিতে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে কাতারেও। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। করোনার বিস্তাররোধে কাতারে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষায় চলাচলের ক্ষেত্রে নানা নির্দেশনা জারি হয়েছে।

কাতার সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও জনসচেতনতামূলক জরুরি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কোনো রকম আতঙ্কিত না হয়ে কাতার সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রবাসীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ৮ মার্চ বাংলাদেশে এ ভাইরাসে তিন জন আক্রান্ত বলে শনাক্ত হলে ৯ মার্চ বাংলাদেশসহ বেশ কিছু নাগরিকদের কাতারে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেখানকার সরকার। যাদের কাতারে থাকার ইকামা আছে, বা যারা পর্যটন ভিসা নিয়েছেন, কিংবা যারা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পেতেন, সবার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানানো হয়।

দেশে ছুটিতে থাকা প্রবাসী সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন জাগো নিউজকে বলেন, দেশে ছুটিতে এসে মনে হয় আটকে গেলাম। এমন জানলে আসতাম না। কাতার সরকার আমাদের যে কোনো একটা সুযোগ দিক, যেন আমরা কাতার ফিরে আসতে পারি। প্রয়োজনে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নই, এমন মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে আসবো বাংলাদেশ থেকে।

এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নিজ নিজ দেশে ফেরা বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের কর্মী এবং পর্যটকদের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েত।

এমনই সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে কাতার সন্দ্বীপ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, ছুটিতে যাওয়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কুয়েতের মত কাতারেও ফিরে আসার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানাই। ৯ মার্চ কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ থেকে আপাতত বিরত থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি কাতারে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে দূতাবাসকে জানানোর অনুরোধও জানানো হয়।

এম এম নুরু বর্তমান সময়ে একজন সক্রিয় কাতার বাংলাদেশ কমিউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় তাই এটি ঠেকাবার জন্য কাতার সরকার সম্প্রতি বেশ জোরেশোরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। তাদের সে দেশে না ফেরা নিয়ে বিচলিত হবার কারণ নেই। যদি কেউ অর্থাৎ বাংলাদেশি নাগরিক করোনার লক্ষন টের পান তাহলে সেখানকার দূতাবাসকে সত্বর যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাই।


কাতার থেকে দেশে এসে বিপাকে, আবার কাতারে ফিরতে চান প্রবাসীরা
Logo
Print

প্রবাস

 

বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ লোক প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে থাকে। তার মধ্যে বেশিরভাগ লোক বিদেশে যাতায়াত করে থাকে শ্রমিক হিসেবে। যারা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি সহয়তা করে থাকে। অনেকেই কাজের সুবাদে অবস্থান করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত কাতারেও। এই দেশটি হতে কর্মক্ষেত্র থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে দেশে বেড়াতে গিয়েছেন যাদের বেশিরভাগ বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতে আটকা পড়েছেন। এ সকল প্রবাসীরা তাদের ছুটি শেষ হবার পর কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ চাইছেন। তারা এই পরিস্থিতে কাতার সরকারের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন।
কুয়েতের মতো কাতার সরকারও প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এ সুযোগের ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছেন তারা। গত জানুয়ারিতে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে কাতারেও। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। করোনার বিস্তাররোধে কাতারে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষায় চলাচলের ক্ষেত্রে নানা নির্দেশনা জারি হয়েছে।

কাতার সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও জনসচেতনতামূলক জরুরি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কোনো রকম আতঙ্কিত না হয়ে কাতার সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রবাসীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ৮ মার্চ বাংলাদেশে এ ভাইরাসে তিন জন আক্রান্ত বলে শনাক্ত হলে ৯ মার্চ বাংলাদেশসহ বেশ কিছু নাগরিকদের কাতারে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেখানকার সরকার। যাদের কাতারে থাকার ইকামা আছে, বা যারা পর্যটন ভিসা নিয়েছেন, কিংবা যারা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পেতেন, সবার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানানো হয়।

দেশে ছুটিতে থাকা প্রবাসী সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন জাগো নিউজকে বলেন, দেশে ছুটিতে এসে মনে হয় আটকে গেলাম। এমন জানলে আসতাম না। কাতার সরকার আমাদের যে কোনো একটা সুযোগ দিক, যেন আমরা কাতার ফিরে আসতে পারি। প্রয়োজনে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নই, এমন মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে আসবো বাংলাদেশ থেকে।

এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নিজ নিজ দেশে ফেরা বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের কর্মী এবং পর্যটকদের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েত।

এমনই সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে কাতার সন্দ্বীপ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, ছুটিতে যাওয়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কুয়েতের মত কাতারেও ফিরে আসার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানাই। ৯ মার্চ কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ থেকে আপাতত বিরত থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি কাতারে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে দূতাবাসকে জানানোর অনুরোধও জানানো হয়।

এম এম নুরু বর্তমান সময়ে একজন সক্রিয় কাতার বাংলাদেশ কমিউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় তাই এটি ঠেকাবার জন্য কাতার সরকার সম্প্রতি বেশ জোরেশোরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। তাদের সে দেশে না ফেরা নিয়ে বিচলিত হবার কারণ নেই। যদি কেউ অর্থাৎ বাংলাদেশি নাগরিক করোনার লক্ষন টের পান তাহলে সেখানকার দূতাবাসকে সত্বর যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাই।


Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.