আওয়ামী লীগকে দুর্দিনে আগলে রাখা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোতাহার হোসেন রানার একসময় বেশ নামডাক ছিল। দলের জন্য তিনি করেছেন অনেক কিছু এবং অনেকেই বলেন তিনি দলের জন্য ছিল নিবেদিত প্রান। কিন্তু সেই ব্যাক্তিটির জীবন এখন অভাবে ভরা। পারেন না নিত্যদিনের প্রাথমিক চাহিদা মেটাতে। তিনি সবসময় চলতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে ও দলকে ভালোবেসে এখন তিঁনি কাঁদেন নিরবে নিভৃতে।
আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কর্মী মোতাহার হোসেন রানা। ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিম উদ্দিন হল ও মীরসরাই থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন মোতাহার হোসেন রানা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক সভায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে ৫ মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন রানা। সভামঞ্চে তার বক্তব্য শুনে শেখ হাসিনা খুশী হয়ে তার নাম, ঠিকানা ডায়েরীতে টুকে নিয়েছিলেন সেদিন। ১৬ই নভেম্বর মিরশ্বরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ছিলো। উপস্থিত দর্শকের সারিতে চেয়ারে এমন অসহায় হয়ে বসেছিলেন এক সময়ের মাঠ কাপানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানা ভাই। এর পরপরই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মোতাহার হোসেন রানার ছবি দিয়ে ফেসবুকে বেশকিছু স্ট্যাটাস দেন। তুলে ধরেন তার দুর্দিনের কথা।

ঘটনাটি যখন ভাইরাল হয় সেটা থেকে কেউ এগিয়ে না আসলেও এ নিবেদিত প্রাণ কর্মীর পাশে এসে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ রাজ রাজীব যিনি কাতার প্রবাসী ও কাতার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

তিনি এই নিবেদিত প্রাণ মানুষটিকে কিছুটা অভাব মোচনের জন্য আগামী ১০ বছর ধরে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে চান। মোহাম্মদ রাজ রাজীব তাঁর ১০ বছর ধরে ঐ অর্থ দেয়া শেষ হলেও পরবর্তীতে তাঁকে এককালীন কিছু অর্থ প্রদান করবেন বলেও জানান। রাজীব কাতার প্রবাসী সাংবাদিক আমিন বেপারীর কাছে তাঁর এই অভিপ্রায় জানান।

এ অর্থ প্রদানের মাধ্যম হবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আল আমিন। বর্তমান সময়ে একজন রাজনৈতিক নেতা তার নেতৃত্ব পান টাকার বিত্ততা দেখিয়ে, আর অর্থ-বিত্ত না থাকলে রাজনৈতিক নেতাও ছিটকে পড়েন দল থেকে। দলে টিকে থাকতে হলে প্রথমত তার টাকা, পয়সা থাকতে হবে। সংগ্রাম আর ত্যাগের এ যুগে কোনো দাম নেই, এটাই সত্য। এরুপ রানা ভাই রয়েছে সমাজের কোনো না কোনো জায়গায়, যারা ছিলেন মুজিব প্রেমী এবং দলের নিবেদিত প্রান কর্মী। দল তাদের চেনে না কোটি কোটি টাকার সম্পদ দুর্নীতির মাধ্যমে কুক্ষিগত করতে না পারায়।