প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ গত আগস্টে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের নতুন নীতিমালার বিষয়ে মালয়েশিয়ার সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু সে প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার সরকার তার আগের নিয়োগ ব্যবস্থা স্থগিত করেছিল এবং গত বছর নতুন স্কিমের আওতায় বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ বন্ধের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। সে সময় বিষয়টি সমাধানের জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করার কথাও বলা হয়েছিল মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে।
এরপর থেকে কিছুদিন নিয়োগ ব্যবস্থা স্থগিত করেছিল মালয়েশিয়ার সরকার। অবশেষে বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন উভয় দেশ। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের পক্ষ থেকে এ বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে আগ্রহী। চলতি মাসে এ বিষয়ে সর্ব ধরনের চুক্তি এবং আলোচনা সম্পন্ন করার জন্য মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল নভেম্বরেই ঢাকায় আসছেন। ১৯ বা ২০ নভেম্বর প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফরে আসতে পারেন।

বুধবার (৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ বৈঠকেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে মন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, যুগ্ম-সচিব ফজলুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, বিএমইটির পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম এবং কাউন্সিলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশের প্রতিনিধি দলের এ বৈঠকে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশটিতে কর্মী পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এছাড়া বৈঠকে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, শ্রমিক নেওয়া বিষয়ে চলতি মাসের ১১ তারিখে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের সাথে বৈঠক করবেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন পদ্ধতি এসপিপিএ বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় তৎকালীন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি এস সি মালয়েশিয়া গিয়ে বৈঠক করলেও (২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮) শ্রমবাজার চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দু’দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নতুন করে কর্মী নেয়ার কিছু পদ্ধতি ঠিক হয়।

চলতি বছরের ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী (তখন প্রতিমন্ত্রী) ইমরান আহমদ মালয়েশিয়া সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবে ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়ায় দু’দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জনশক্তি রফতানিতে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার একটি বড় স্থান ধরে রেখেছে বেশ আগে থেকেই। সরকারী তথ্য মতে মালয়েশিয়ায় পাঁচ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী বিভিন্ন খাতে কাজ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, সে সংখ্যা আরও বেশি। ২০১৬ সালে, দুটি দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে মালয়েশিয়া ’সরকার টু সরকার প্লাস’ সিস্টেমের অধীনে পাঁচটি পৃথক খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি জানায়। তখন পাঁচ বছরের চুক্তির অধীনে বাংলাদেশী দশটি নিয়োগ সংস্থাকে শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে প্রায় ২০০,০০০ বাংলাদেশী এই সিস্টেমের অধীনে মালয়েশিয়ায় গেছেন। ২০১৮ সালে জুলাই মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক গেছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬২ জন।