জীবিকার তাগিতে দেশের অনেক মানুষ প্রবাসে যেয়ে থাকেন। একমাত্র নিজেদের পরিবারের কথা ভেবে সুদূর প্রবাসে যান। কিন্তু সবাই প্রবাসে যেয়ে ভালো থাকেন না। তারপরও পরিবারের কথা ভেবে থেকে যান। অনেকে বছরের পর বছর পরিবার পরিজন রেখে সুদূর প্রবাসে থাকেন। এত কষ্ট করে প্রবাসে থাকার পরও অনেকে সুস্থ ভাবে দেশে ফিরতে পারে না।
এবার তেমনই একটা ঘটনা ঘটলো। ছুটি কাটাতে দীর্ঘদিন পর সিলেটের রানা আহমদ তৌরিফ (৪৯) দেশে ফিরছিলেন। তিনি সিলেটের উদ্দেশে বিমানে উঠেছিলেন। তবে তিনি সুস্থ অবস্থায় সিলেটে নামতে পারলেন না। সিলেটে নামার আগেই তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
গতকাল শুক্রবার ফেরার পথে বিমানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা রানা। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে ছিলেন দীর্ঘদিন।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওমানের রাজধানী মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পরপরই উড়োজাহাজের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েন রানা আহমদ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুরা তাকে সেবা দেন। কিন্তু একপর্যায়ে তিনি উড়োজাহাজের ভেতরেইনা ফেরার দেশে চলে যান।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানার মেয়ে ও ভাতিজাসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে হস্তান্তর করে।

বিমানবন্দরে হতভাগ্য রানার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। আকস্মিক এই ঘটনায় বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।

শুক্রবার বাদ এশা জানাজা শেষে রানাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-২২২) মাস্কাট-সিলেট-ঢাকা রুটের ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। আকাশে উড়ার কিছুক্ষণ পরই রানা আহাম্মদ তার অসুস্থতার কথা ফ্লাইটে দায়িত্বরত কেবিন ক্রুদের বলেন। তিনি ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী ছিলেন। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে অচেতন হয়ে পড়েন রানা। তখন ফ্লাইটের পাইলটকে এই সংবাদ জানানো হয়। সে সময় পাইলট ফ্লাইটটি কোথাও অবতরণ না করে একেবারে সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করিয়েছেন। তারপর ডেকে আনা হয় বিমানের ডাক্তার। সেই ডাক্তার তার প্রেশার ও পালস পরীক্ষার পর বলেন যাত্রী উড়োজাহাজের ভেতরেই না ফেরার
দেশে চলে গেছেন।


এই ঘটনায় সবাই তখন শোকাহত হয়ে পরেন। এরপর রানা আহমদ তৌরিফের পরিবারকে এই সংবাদ জানানো হয়। তারপর তার পরিবার এসে তাকে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় রানা আহমদ তৌরিফের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।