কবির হোসেন সরকার যিনি অনেক দিন ধরে রয়েছেন ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে। এই কমিটির মেয়াদ পার করলো দুই বছর। কবির হোসেনের নিজস্ব কোন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। কিন্তু তিনি কমিটিতে যোগ দেবার মাত্র দুই বছরের মধ্যে গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি যাতে ব্যয় হয়েছে কয়েক কোটি টাক। তিনি প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে কিনেছেন বিলাসবহুল গাড়ি। তিনি যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে কমিটিতে আসার পর এবং পূর্বে চাঁদাবাজি, জমি দখল, পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা দখলসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে, এগুলো নিয়ে তার নামে রয়েছে ৯টি মামলা।
কমিটি গঠনের আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি থানায় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, চাঁদাবাজি, চুরিসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে চার্জশিটভুক্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে। কমিটি গঠনের পরবর্তীতে তার প্রভাব কিছুটা বেড়ে যায়। তখন আশুলিয়া ও কাশিমপুর থানায় সন্ত্রাসী হমালা, ঝুট ব্যবসা দখল, কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজির ও জমি দখললের অভিযোগে দায়ের হয় আরও চারটি মামলা। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে দুটি মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠান।
কমিটিতে আসার পর গত দুই বছরে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। থানার একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, কবির সরকারের কোনও ব্যবসা নেই। কিনেছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা দামের গাড়ি। নিজ এলাকায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে একটি ডুপ্লেস বাড়ি তৈরি করছেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বাড়ি নির্মাণে ১০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সরেজমিনে কবির সরকারের নির্মাণাধীন বাড়িতে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। কমিটিতে আসার পর থেকে বাড়ির কাজ শুরু হয়েছে।
সাভার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন খান বলেন, ’বর্তমান আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর আগে কবির সরকারের থানা পর্যায় তো দূরের কথা ওয়ার্ড পর্যায়ে সদস্য পদেও নাম ছিল না। এমন একজন ব্যক্তিকে হঠাৎ করেই আশুলিয়ার মতো এলাকায় যুবলীগের আহ্বায়ক করায় সাবেক যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় জন্ম কবির সরকারের। এই এলাকাতেই তিনি আলিশান বাড়িটি তৈরি করছেন। তিনি নিজে কাশিমপুর এলাকায় বাস করলেও আশুলিয়ার ঠিকানায় নিজের ভোটার আইডি কার্ড করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ২০১৩ সালে নাশকতা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে কবির সরকারকেও আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায়ও তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।
এদিকে, কমিটিতে আসার এক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে জমি দখল ও চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠে যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি উজ্জ্বল সরকার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কবির সরকারকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
চলমান বছরের ২২ মে লিমন সরকার যিনি বর্তমানে কাশিমপুরের ছাত্রলীগ নেতা তিনি নিজে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ কবির সরকারকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন।
যুবলীগের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতাকর্মী কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি আনার পর থেকে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। আশুলিয়ার ইউনিয়ন পর্যায়ে যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে তিনি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটির বিভিন্ন পদে কর্মী যুক্ত করেছেন। ইয়ারপুর ইউনিয়নে তার বিরুদ্ধে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে কবির হোসেন সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ’আমি বর্তমানে দলের অভ্যন্তরীন রজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। একটি মহল আমার সৎ কর্মকান্ডের প্রতি হিংসার বশবতী হয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।’ অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ অর্জনের যে অভিযোগ বর্তমানে তার বিরুদ্ধে এসেছে তা তিনি অকপটে অস্বীকার করেন।
হারুনুর রশিদ যিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ’বিষয়টি নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত তবে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’