প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন আগামী নির্বাচনে ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি ভোট পাবে আওয়ামী লীগ।
জয় তার ব্যক্তিগত জরিপের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমার জরিপের রেজাল্ট এত ভালো আসছে যে আজকে যদি নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের চেয়েও বেশি ভোট পাবে। ২০০৮ সালের চেয়েও বিপুল ল্যান্ডস্লাইড হবে আওয়ামী লীগের পক্ষে। এটা একদম সায়েন্টিফিকলি জরিপ করে আমরা বের করেছি। জরিপটা আমি প্রত্যেক বছরই করি। সেটা আমার একটা প্রফেশনাল কোম্পানি আছে, তাদেরকে দিয়েই করাই। জরিপটা আমি নিজেই ডিজাইন করি, মনিটর করি। এর ওপর আমি স্টাডি করেছি, ক্লাসও করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের জরিপ হচ্ছে ওয়ান অব দ্য মোস্ট একিউরেট সারা দেশে। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবেই। আওয়ামী লীগকে ভোটে হারানোর মতো দল আর বাংলাদেশে নাই।

জয় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবেই এমন দাবি করলেও জয়ের এই জরিপের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে সন্দেহ আছে। বাস্তবতার সঙ্গে জয়ের এই তথ্যের কোনো মিল নেই বলে মনে করছেন রাজনীতিক বিশ্লেষক, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও সিনিয়র সাংবাদিকরা।



অপরদিকে, ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় গত ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবাদিক জয়তী মালহোতরা এখানে সরকারের অনেক ব্যর্থতা তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের বিশেষ করে গত নভেম্বর মাসের গুম-অপহরণের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন। তুলে ধরেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বিদায় করে শেখ হাসিনার সরকার যে বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছেন।


সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, লুটপাট, ঘুষ ও দখল বাণিজ্য যে সীমার বাইরে চলে গেছে তাও বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি লিখেছেন, এখন যদি বাংলাদেশে নির্বাচন হয় তাহলে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৭৫টি আসন পাবে। ক্ষমতায় চলে আসবে বিএনপি।

আর বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, বর্তমানে আওয়ামীগ খুব বেহাল অবস্থায় আছে। প্রতিদিন গুম-অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, চাদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি ও বেপরোয়া লুটপাটের কারণে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপর চরম ক্ষুব্ধ। জানের ভয়ে মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলে কিছু বলতে পারছে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তৃতা করতে গিয়ে এগুলো অকপটে স্বীকার করছেন। আবার ক্ষমতায় না আসতে পারলে যে পিঠ বাঁচাতে পারবে না সেটাও তিনি নেতাকর্মীদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।

তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে যে জরিপের কথা বলেছেন সেটা মোটেও সঠিক না। বিগত ৯ বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও খুন-হত্যার পর ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে নেতাকর্মীরা এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন। নিজেদের ভবিষ্যত পরিণতির কথা ভেবে অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে জয় এ ধরণের কথা বলে তাদেরকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, দেশের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।