সম্প্রতি হজ পালন করেছেন একাধিক বামপন্থী নেতা। যা সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। একজন মুসলমান হিসেবে হজ ব্রত পালন যেকোনো মুসলানের জন্য ফরজ এবং একটি স্বাভাবিক ঘটনা। নানান সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের হজ বা ওমরা হজ পালন সংবাদ মাধ্যমে খবরের বিষয়বস্তু হলেও বাম শীর্ষ নেতাদের হজ পালন বিতর্ক তৈরি না করলেও অন্য রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় বেশি মাত্রায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয় নিয়ে কথা হয় বামপন্থী ও ডানপন্থী একাধিক নেতার সঙ্গে।

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো নিজ উদ্যোগে হজ পালনে যান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তাদের দু’জনের একসঙ্গে হজ পালনে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর চলতি বছরে ওমরা হজ পালনে যান প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা মনজুরুল আহসান খান।

এই ঘটনায় সমালোচনামুখর হয়ে অনেকে বলেছেন, কমিউনিস্ট হওয়া এক জিনিস আর কমিউনিস্ট পার্টি করা আরেক জিনিস। মঞ্জুরুল আহসান খান কমিউনিস্ট পার্টি করেছেন মাত্র।

আবার অনেকে বলেছেন, কমিউনিস্ট পার্টি করলে ধর্ম করা যাবে না এটা কি কোথাও বলা আছে? ধর্ম একটা বিশ্বাসের ব্যাপার। কে কোনটা বিশ্বাস করবে এটা তার একান্তই নিজস্ব। যার বিশ্বাস সে করবে। যার বিশ্বাস নাই সে চুপ করে থাকবে। কোনো কিছু মানা না মানাও কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার।

বিষয়টিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা স্বগত জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেও কেউ কেউ উৎসুক মন্তব্য করেছেন।

সিনিয়র কমিউনিস্ট নেতা কমরেড বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘আব্দুল হক, মোহাম্মদ অসংখ্য কমিউনিস্ট নেতা ছিলেন তারা কখনো হজে যাননি। আমার জানা মতে এ ধরনের হজ পালন কোনো কমিউনিস্ট নেতা করেননি। ভারতবর্ষে প্রখ্যাত কোনো কমরেড নেতাও কোনোদিন হজ পালনে যায়নি।’

কমিউনিস্টদের হজ পালন ব্যক্তিগত ব্যপার কি না এ বিষয়ে প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘কোনও বিশ্বাসে চাপিয়ে কমিউনিস্ট আন্দোলন হয় না, গণতন্ত্রও হয় না। কোনো বিশ্বাস অন্য বিশ্বাসে চাপিয়ে কমিউনিস্ট নেতা হওয়া যায় না। ধর্ম যার যার এটা কমিউনিস্টদের জন্য নয়। এমন নীতি বাইরের জগতের মানুষদের জন্য। বাইরে বিশাল সমর্থকদের এই বিশ্বাসের উপর কমিউনিস্টরা কখনো হস্তক্ষেপ করে না।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন- পুঁজিবাদী দেশের অন্যতম বলে পরিচিত এবং বামপন্থীদের সবচেয়ে অপছন্দের ও সমালোচিত রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর ভালোভাবে নেননি অনেক বামপন্থী নেতাকর্মীও। এবার কমিউনিস্টদের মধ্যে মনজুরুল আহসান খান হজ পালনে গেলেন। এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন তা জানতে চাইলে বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘আগে বহু নেতা ছিলেন। পাকিস্তান আমল থেকে কমিউনিস্টদের একটা নীতি ছিল। হঠাৎ করে কমিউনিস্টরা নতুন নতুন কথা বলছেন। নতুন নতুন কর্মকাণ্ড করছেন, যা কমিউনিস্টদের করা উচিত নয়।’

এদিকে যারা কমরেডদের হজ পালন নিয়ে সমালচনায় জড়াচ্ছেন তারা সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াচ্ছেন কিনা এমন প্রসঙ্গ স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বাম নেতারা।

‘বাম নেতাদের হজ পালনের বিষয়ে’ বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘হজ একটা ব্যক্তিগত বিষয়। আমি মনে করি এটা কোনো সমস্যা নয়। আন্দোলন সংগ্রামের বিষয় আর ব্যক্তিগত বিষয় আলাদা। এতে কোনো অসুবিধে নেই।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘এটা ভালো। জন্মগতভাবে আমরা মুসলমান। হজ পালন খারাপ না। কমিউনিস্ট হলো হজ পালন করা যাবে না এটা বলা যাবে না। কমরেডদের রাজনৈতিক স্থান ও ব্যক্তিগত স্থান আলাদা কোনো বিষয় না।

তিনি বলেন, ‘বহু কমরেড রয়েছেন জীবনের অনেক ধর্মকর্ম করেছেন। এ প্রসঙ্গে কমরেড মোজাফফর বলেন, ভারতবর্ষের সব কমরেড শেষ বয়সে এসে ধর্মকর্ম করে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘এটা কোনো বিষয় না। ধর্ম যার সে সেটা পালন করতে পারে। এটা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।’
উৎসঃ পরিবর্তন