নারায়ণগঞ্জে অপহরণোত্তর ৭ খুনের মামলার আসামি র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ কারাবন্দি ২৩ আসামি সোমবার আদালতে হাজির হন পরিপাটি পোশাক পরে। তবে রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে নিয়ে পরানো হয় কয়েদির পোশাক। এই পোশাকেই এখন থেকে তাদের থাকতে হবে কারাগারে। আর তৃতীয় শ্রেণির সাধারণ বন্দি হিসেবে ৩ বেলা খাবার পাবেন তারা। ৭ খুনের মামলায় গ্রেপ্তার ২৩ আসামির মধ্যে চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ কারাগারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। তাকে রাখা হয়েছে কনডেম সেলে (অন্ধকার প্রকোষ্ঠ)। শুধু তারেক সাঈদই নন, ৭ খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে রাখা হয়েছে কনডেম সেলে। সারাদেশে ৬৮টি কারাগারের কনডেম সেলে বর্তমানে এক হাজার ৩৩৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এ রাখা হয়েছে র‌্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর আরিফ হোসেন ও কমান্ডার এম এম রানাকে। আর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এ রাখা হয়েছে তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, নূর হোসেন ও সাবেক ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য বিল্লাল হোসেনকে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক পূর্বপশ্চিমকে বলেছেন, নিরাপত্তার কারণে আপাতত তারেক সাঈদ, নূর হোসেন ও বিল্লাল হোসেনকে কোনো কাজ দেওয়া হবে না। আর জেল কোড অনুযায়ী তাদের ৩ জনকেই কয়েদির পোশাক পরানো হয়েছে। কিভবে কনডেম সেলে নূর হোসেন প্রথম দিন কাটিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নূর হোসেনকে খুব একটা বিচলিত দেখা যায়নি। এফএম রেডিওতে গান শুনেই দিন পার করেছেন তিনি।

রোববার আদালতে হাজির করার সময় তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, এম এম রানাসহ গ্রেপ্তারকৃত বেশির ভাগ আসামিই হাসিখুশি ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর তারা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। রায় ঘোষণার পর তারেক সাঈদসহ র‌্যাবের ৩ কর্মকর্তাকে কারাগারে নেওয়ার সময়ও তাদের চোখেমুখে বিমর্ষতার ছাপ ছিল। তিনজনকেই কঠোর প্রহরায় ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে। তবে নূর হোসেনকে কারাগারে নেওয়ার পর তাকে বিমর্ষ দেখা যায়নি।

কারাগারের কর্মকর্তারা বলছেন, ফাঁসি কার্যকরের আগ পর্যন্ত কারাবিধি অনুযায়ী ৭ খুন মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সব আসামি তৃতীয় শ্রেণির কয়েদি হিসেবে প্রতিদিন ৩ বেলা ৫০ থেকে ৫২ টাকার খাবার পাবেন। বরাদ্দ অনুযায়ী সকালে ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম আটার রুটি ও গুড়, দুপুরে ২৯১ দশমিক ৬০ গ্রাম চালের ভাত, ১৪৫ দশমিক ৮০ গ্রাম ডাল এবং রাতে দেওয়া হবে ৩৬ দশমিক ৪৫ গ্রাম মাছ অথবা মাংস। দুপুরে ও রাতে দুবেলায় দেওয়া হবে ২৯১ দশমিক ৬০ গ্রাম সবজি। এসব খাবার রান্নায় ব্যবহৃত হবে তেল, লবণ, মরিচ ও মসলা। সব মিলিয়ে তাদের একদিনে বরাদ্দ ৫০ থেকে ৫২ টাকার খাবার। র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাকে এই খাবার খেয়েই কারাগারের দিনগুলো কাটাতে হবে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, যে কনডেম সেলগুলোয় ৭ খুন মামলার আসামিদের রাখা হয়েছে সেগুলো অপেক্ষাকৃত নির্জন ও সুরক্ষিত। দরজা একটাই। কিন্তু কোনো জানালা নেই। অন্ধকার প্রকোষ্ঠ। সেখানেই তাদের দিন কাটাতে হবে। দরজা খুলে তিন বেলা তাদের খাবার দেওয়া হবে।

এদিকে ৭ খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনসহ ১৮ আসামিকে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। তারা হলেনÑ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এসআই পূর্ণেন্দু বালা, হাবিলদার এমদাদুল হক, কনস্টেবল শিহাবউদ্দিন, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, সিপাহি আবু তৈয়ব, আসাদুজ্জামান নূর, নূর হোসেনের সহযোগী মোর্র্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার; ১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কনস্টেবল বাবুল হাসান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সৈনিক নুরুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ এবং ৭ বছর করে সাজাপ্রাপ্ত এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসিরউদ্দিন।

জেলা কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার মো. আসাদুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ কারাগারে ফাঁসির আসামিদের জন্য ১৫টি সেল রয়েছে। প্রতিটি সেলে ৩ জন করে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১২ জনকে রাখা হয়েছে। তাদের সাজাপ্রাপ্ত বন্দির পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ কারাগারে আগে থেকেই ফাঁসির আরও ১২ জন আসামি রয়েছে। তারা যেভাবে রয়েছে, ৭ খুনের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরও সেভাবে রাখা হয়েছে।

জেলার আসাদুর রহমান আরও জানান, আসামিদের সোমবার রাতে সবজি ও ডাল, ভাত ও মাছ খেতে দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই খেয়েছেনও। মঙ্গলবার সকালে তাদের রুটি ও গুড় দেওয়া হয়েছে।
উৎসঃ purbopocshim