সামিয়া গুপ্ত। বছর ২২-এর এই তরুণী লখনউ-এর বাসিন্দা এবং আইনের ছাত্রী। পোশাক-আশাকেই সামিয়া শুধু আধুনিকা হতে পছন্দ করেন না। তাঁর মতে মানসিকভাবে আধুনিক এবং সাহসী হওয়াটাও খুব জরুরি। আর এইজন্য তিনি এক ইভটিজারকে জেলে পুড়ে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। ইভটিজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য প্রবলভাবে মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে সামিয়ার উপরে, দেওয়া হচ্ছে হুমকি। এমনকী তাঁর চরিত্র নিয়েও টানাটানি হচ্ছে। কিন্তু, কোনওভাবেই পিছু হটতে নারাজ সামিয়া। তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য- ‘যে মানুষটা আমার শ্লীলতাহানি করল তার বিরুদ্ধে কেন আমি অভিযোগ প্রত্যাহার করব?’ 
কী হয়েছিল সামিয়ার সঙ্গে? কয়েক দিন আগের ঘটনা। লখনউ-এ একটি বাসের পিছনের সিটে বসেছিলেন সামিয়া। আচমকাই তিনি অনুভব করেন পাশে বসা লোকটি তাঁর বুকের উপর হাত রেখেছে। প্রথমে কড়া চোখে লোকটির দিকে তাকান সামিয়া। এরপর হাত সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, লোকটি জোর খাটিয়ে সামিয়ার হাত সরিয়ে দেয়। এরপর ক্ষিপ্ত সামিয়া পিছন সিটে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেন। এবং লোকটিকে সপাটে চড় কষাতে যান। কিন্তু, অন্য যাত্রীরা এসে সামিয়াকে আটকান। এরপর সামিয়া লোকটির জামার কলার চেপে ধরেন। লোকটি বেগতিক দেখে ক্ষমা চাইতে শুরু করেন। বাসের যাত্রীরাও সামিয়াকে বলতে থাকেন ক্ষমা করে দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে নিতে। বছর ৪০-এর লোকের বিকৃত মানসিকতাকে কীভাবে অন্য যাত্রীরা মিটমাটের স্তরে নিয়ে যেতে চাইছেন তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না সামিয়া। তিনি সাফ জানিয়ে দেন বাস থানায় নিয়ে যেতে হবে। তিনি এই লোকটিকে জেলে দেবেন।  
সামিয়ার জেদের কাছে সকলেই নতি স্বীকার করেন। কিন্তু, থানাতেও একপ্রস্থ হেনস্থার সামনে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। হিন্দিতে অভিযোগ দায়ের করতে বলেন তদন্তকারী অফিসার। কিম্তু, সামিয়া জানান তিনি ইংরাজিতে স্বচ্ছন্দ। থানা থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে হিন্দিতেই অভিযোগ দায়ের করতে হবে। অবশেষে অনেক কষ্টে সামিয়া হিন্দিতে অভিযোগ দায়ের করেন। 
ebela