কৃষক শ্রমিক জনতালীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আমি কোনও অন্যায় সহ্য করতে পারি না, নির্দিষ্ট সময় বাঁচতে চাই। স্বাধীন এ দেশে একটা ছাগলের গায়ে আঘাত (বারি) করলে তার বিচার হওয়া উচিত। আর পুলিশ কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষকদের নির্মমভাবে মেরে আহত করলো, একজন শিক্ষক মারাও গেলেন। তার বিচার প্রয়োজনে গলায় গামছা লাগিয়ে জনসম্মুখে হওয়া উচিত।
শুক্রবার দুপুরে ফুলবাড়ীয়া কলেজে শিক্ষকসহ ২জন নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশটা ধীরে ধীরে পুলিশি দেশ হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনও দানবের কাছে মাথানত করে আমি বাঁচতে চাই না।
এ সময় তিনি দু’জন শিক্ষকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আপনাদের বক্তব্যে কোন দরদ ও সহানুভূতি ছিল না। আপনাদের কাছ থেকে জাতি কি আশা করবে! শিক্ষার্থীরা কি শিক্ষা নিবে! আপনাদের আরও বেশি সচেতন ও তুখোর হতে হবে।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, পুলিশের অনুমতি নিয়ে যারা মিছিল করে, বিক্ষোভ করে, তারা পুলিশের পায়ের নিচেই থাকে। পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পেটাল- আমি যদি এ কলেজের ছাত্র হতাম তাহলে কমপক্ষে ৩টা পুলিশের রান ছিঁড়ে ফেলতাম। আমি আজ মারামারি করার জন্য আসি নাই। আমি দেশে শান্তি চাই, বিশেষ করে বৃহত্তর ময়মনসিংহে শান্তি চাই। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে যে কলেজের ঐতিহ্য মিশে আছে সেই কলেজ সরকারী হওয়ার দাবি যৌক্তিক। আমি এ দাবির সাথে সমর্থন জানাতে এখানে এসেছি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যেশ্য করে আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, হাসিনা বোন আপানাকেও বলি আপনে আর বাইরেন না। আপনারে মারার জন্য ওই তেলের পাইপ খুলে থুইছিল প্লেনের। আপনি যাদের নিয়ে নাচেন, এই রকম নাইচেন না। যারা আপনের বাপেরে মারছে তারা কিন্তু আপনেরে ছাড়বে না। সাবধান হন মানুষের মন জয় করেন । পুলিশের এত বার বারছে কেন জানেন? আপনে ভোট ছাড়া নেতা হইছেন। পুলিশ সব সময় কয় সরকার বানাইছি আমরা, সরকার আমগোর কি করবে। কালিহাতিতে মা বোনের ইজ্জত নষ্ট করার সময়েও বলে। এখানে আমি শুনে অবাক হলাম, এই কলেজের ছাত্রীদেরও বলে মারব।
এ সময় দলের ধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে গত রোববার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ ও পথচারী সফর আলী নিহত হন।

latestbdnews