শবনম ফারিয়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি প্রথম দিকে ছোট পর্দায় অভিনয় দিয়ে শুরু করেন। এরপর তিনি কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে তিনি বেশভাগ সময় নাটকে অভিনয় করে থাকে। তার অভিনিত নাটক ও সিনেমা গুলো দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি হুমায়ূন আহমেদের গল্প ’দেবী’ অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় অভিনয় করে বেশ আলোচনায় আসেন। এই সিনেমায় অভিনয় করে তিনি অনেকের কাছে প্রশংসিত হন। বর্তমানে তিনি একটি জনপ্রিয় নাটকের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এই নাটকের নাম ’ফ্যামিলি ক্রাইসিস’।
এনটিভিতে আজ রাত পৌনে ৯টায় দেখানো হবে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ’ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নাটকের ৭৫তম পর্ব। এ নাটকে অভিনয় করেছেন শবনম ফারিয়া। নাটকটিসহ অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বললেন তিনি

ফ্যামিলি ক্রাইসিস–এ রুমা চরিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
ফ্যামিলি ক্রাইসিস এখন পর্যন্ত আমার অভিনীত সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সিরিয়াল। এই নাটকের মতো এত রেসপন্স আর পাইনি। রুমার চরিত্রটিতে যখন কাজ শুরু করি, তখন কথা ছিল যে ১০০ পর্ব পর্যন্ত ক্রাইসিস থাকবে। তারপর সেটা শেষ হয়ে যাবে। মেয়েটা আরেকটু দায়িত্বশীল হবে। পরিবারের একটা বড় দায়িত্ব হয়তো মেয়েটার ওপর আসবে।

নাটকটা টেলিভিশনে নাকি ইউটিউবে বেশি দেখেছে—কোন কথাটা বেশি শুনেছেন?
যেখানে যাই, সেখানেই রেসপন্স পাই। অনেকেই বলছেন, অনেক দিন পর এ রকম একটা ধারাবাহিক হচ্ছে, যা পুরো পরিবার নিয়ে বসে দেখা যায়। চরিত্রগুলো অনেকটাই বাস্তব। রুমার মতো ছোট বোন অনেকের বাড়িতেই আছে, সেলিম ভাইয়ের মতো বড় ভাই আছে। মা আছেন, যিনি একটা সময়ের পর একটু অসহায় হয়ে যান, ছেলেমেয়েদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যান। এই গল্পগুলো খুবই কাছের গল্প। বেশির ভাগ মানুষই ইউটিউবে দেখেন। টেলিভিশনে নানা কারণে দেখতে পারেন না। মানুষের প্রতিক্রিয়ার বেশির ভাগটাই আসে ইউটিউব থেকে।

অনেককে বলতে শুনি, নাটক সিন্ডিকেটে আটকে গেছে! এই সিন্ডিকেট মোকাবিলা করেন কীভাবে?
আমি আসলে সিন্ডিকেটের ব্যাপার বুঝি না। আমাকে পরিচালক ফোন করেন। আমি গল্প পড়ি। পছন্দ হলে করি। কাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাপারে খোঁজখবর রাখি না। তাই আমি এখন পর্যন্ত সিন্ডিকেটের খবর জানি না।

দেবীর সিনেমায় নীলু চরিত্রে আপনাকে সবাই বেশ পছন্দ করেছে। এরপরও আপনাকে আর সিনেমায় দেখা গেল না।
দেবীর পর যে পরিমাণ রেসপন্স ছিল, সবাই যেভাবে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাতে এরপর কোনো সিনেমা করতে হলে সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। কিন্তু এমন কোনো স্ক্রিপ্ট আর পাইনি, যা নীলুর চরিত্রের মতো শক্তিশালী। সিনেমা তো একটা প্যাকেজ। সবকিছু একসঙ্গে ভালো হতে হয়। এখন পর্যন্ত সে রকম ছবি পাইনি।

অনেকেই বলেন আপনি খোলা মেলা কথা বলার স্বভাবের। এ জন্য কখনো সমস্যায় পড়েছেন?
যে কথা বলা উচিত, সেটাই বলি। আমাদের দেশে একটা ব্যাপার আছে, সবাই একটু সুগারকোটিং দিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে। সরাসরি সত্যি কথা বলে না। ছোটবেলা থেকে আমাকে এ কথাই শেখানো হয়েছে যে মিথ্যা বলবে না। পেছনে কারও বদনাম করবে না, যা বলার সামনাসামনি বলবে।

আলোচিত রিয়েলিটি শো মাসুদ রানার প্রাথমিক পর্যায়ের বিচারক ছিলেন। ভবিষ্যতে আবারও বিচারক হতে চান?
মাসুদ রানার রেসপন্স? খুবই খারাপ ছিল। আমি চেষ্টা করেছি ভদ্র থাকতে। আমি ভেবেছি, যারা এখান থেকে নির্বাচিত হবে, তারা আমার সহশিল্পী হবে। তারপরও যে পরিমাণ সমালোচনা হয়েছে, আমার মনে হয়েছে সেটার জন্য আমি দায়ী নই। অন্য কারও ভুলের ভার আমাকে নিতে হয়েছে। আমি আর কখনো, কোনো দিন, জীবনেও কোনো রিয়েলিটি শোর বিচারক হব না।

নতুন কাজের খবর বলুন।
এখন কাজ চলছে দুটো সিরিয়ালের। একটা বকুলপুর, অন্যটা ফ্যামিলি ক্রাইসিস। নতুন সিরিয়াল শুরু করছি তৌকীর আহমেদের পরিচালনায়। এ নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত। তৌকীর আহমেদের ফ্যান আমি। তাঁর সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে। অনেক একক নাটকের কাজ করছি। এরই মধ্যে ঈদের নাটক শুরু হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, শবনম ফারিয়া মিডিয়া জগতে প্রথম দিকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু করেন। এরপর এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী তার দক্ষ অভিনয়ের মাধ্যমে দেশে তরুণদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি বেশির সময় ছোট পর্দায় অভিনয় করে থাকেন। এছাড়া তিনি দেশের বেশ কিছু টিভি চ্যালের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছে। তার এ সকল নাটকও দর্শকদের কাছে বেশ সারা ফেলে। তবে এর মাঝে তিনি একটি রিয়েলিটি শোতে বিচারক ছিলেন। এই শো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনা দেখা দেয়। এ কারণে তিনি জানান, আর কোন দিন তিনি রিয়েলিটি শোতে বিচারক হিসেবে যাবেন না।