দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় সময় অভিযোগ উঠে আসে কিছু পরিবার কাজের মেয়ের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। এমনকি কিছু পরিবার কাজের মেয়ের সাথে নি/ষ্ঠু/র আ/চা/র/ণ করে। আর এবার এক দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এসেছে যে তারা এক কাজের মেয়ের সাথে সব থেকে খারাপ ব্যবহার করেছে। একটা সময় সেই কাজের মেয়ে না ফেরার দেশে চলে যায়। এবার দীর্ঘদিন পর সেই ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।

প্রায় আড়াই মাস আগে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গঙ্গাশ্রম এলাকার জোড়া ব্রিজের নিচে লাগেজের ভেতর থেকে অ’জ্ঞা’ত নারীর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অ’জ্ঞা’ত নিথর দেহ পরিচয় সনাক্ত এবং মৃ’’ত্যু’’র কারণ জানতে পারছিলেন না তদন্তকারী দল। পরে লাগেজের ভেতর পাওয়া একটি প্রেসক্রিপশনের সূত্র ধরে নিথর দেহের পরিচয় সনাক্ত করে মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআই।

নিথর দেহটি ছিল সাবিনা এক গৃহকর্মীর। ময়মনসিংহ নগরীর তৈমুর টাওয়ারে থাকার এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ও তার স্ত্রী তাদের বাসার গৃহকর্মীকে শেষ করে। নিথর দেহ গু’’ম করার উদ্দেশে লাগেজে ভরে গৌরীপুর এলাকায় ফেলে আসে তারা। পিবিআই এ ব্যাপারে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সোহাগ ও তার স্ত্রী জেসিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই এর ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত গৃহকর্মী সাবিনা বাড়ি সদর উপজেলার উজান ঘাঘরা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সিরুর মেয়ে। ৩-৪ বছর আগে সাবিনা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সোহাগের বাসায় কাজে আসে। কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সাবিনার গায়ে হাত দিতেন সোহাগ ও তার স্ত্রী জেসি। গত ৮ নভেম্বর সাবিনাকে নগরীর তৈমুর টাওয়ারে শেষ করা হয়। এরপর তার নিথর দেহ লাগেজে করে গৌরীপুর এলাকার গঙ্গাশ্রম এলাকায় ফে/লে দেওয়া হয়। লাগেজে কয়েকটি ইটের টু/ক/রাও ঢু/কা/নো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. আবুল কাশেম, জানান, লাগেজের ভেতর পাওয়া যায় একটি প্রেসক্রিপশন। তার সূত্র ধরে গত বুধবার রাত ৮টার সময় ময়মনসিংহ শহরের বারেরা এলাকা থেকে আব্দুল কদ্দুসের ছেলে আবুল খায়ের মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহাগ (৪৪) এবং তার স্ত্রী রিফাত জেসমিন ওরফে জেসিকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে গৌরীপুরের গঙ্গাশ্রম এলাকার জোড়া ব্রিজের নিচে পাওয়া লা/গে/জ/ব/ন্দি অ/জ্ঞা/ত মেয়ের ঘটনার রহস্য।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় সময় গৃহকর্মীর সাথে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠে আসে। তবে বাসার মধ্যে এমন ঘটনা ঘটে বলে অনেক সময় তা বাইরে প্রকাশ পায় না। এমনকি গৃহকর্মীকে আটকে রাখা হয় তার সাথে তার পরিবারের কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। তেমনি এই গৃহকর্মীর সাথে ঘটে গেল সব থেকে খারাপ ঘটনা যা দীর্ঘদিন পর উন্মোচন হলো।