সম্প্রতি টাঙ্গাইলে বাল্যবিয়ের কারণে এক স্কুল ছাত্রীকে তার জীবন দিতে হল। স্কুল ছাত্রীকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। আর তার যে ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেওয়া হয় তার বয়স অনেক ছিল। এমনকি স্কুল ছাত্রীর বয়সের দ্বিগুণ। তবে এই স্কুল ছাত্রী বিয়ের প্রথম রাতেই সব থেকে বড় রকমের বিপদে পরে। তার স্বামী বাসর রাতে যে সম্পর্ক করে এরপর থেকে স্কুল ছাত্রীর জীবনে নেমে আসে করুণ পরিনতি। তবে এবার জানা গেল প্রাণ যাওয়ার আগ মুহূর্তে নানাকে কিছু গো/প/ন কথা বলে গেলেন নুর নাহার নামে ওই ছাত্রী।

বিয়ের ৩৪ দিনের মাথায় মা’’’রা যাওয়া টাঙ্গাইলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুর নাহার (১৪) প্রাণ যাওয়ার আগমূহুর্তে তার নানাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, নানা ও (স্বামী) মানুষ না জা/নো/য়া/র, আমি (ছাত্রী) কত হাতে পায়ে ধরেছি, সহ্য করতে পারছিনা তাও ও (স্বামী) আমারে ছাড়ে নাই। র//ক্ত পড়তাছে, য/ন্ত্র/ণা/য় কুকাইতাছি, দ/ম বন্ধ হয়ে আসছে, আমারে বাঁ/চ/তে দেন, তাও ও (স্বামী) আমারে ছাড়ে নাই। ও (স্বামী রাজিব) বলে প্রথম দিকে এরকম সমস্যা হয়ই, কয়েকদিন পর ঠিক সয়ে যাবে, এমনটাই বলতে বলতে মৃ’’ত্যু’’র কো/লে ঢ/লে পড়ে বলে জানান নানা লাল খান। বি/লা/পে/র স্বরে কথাগুলো বলতে বলতে অ/জ্ঞা/ন হয়ে পড়েন ছাত্রীটির নানা।

নুর নাহারের নানা লাল খান বলেন, আমার মেয়ের জামাইর অভাবের কারণে নুর নাহারকে ছোটবেলাতেই আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। দিনমজুরি করেই তাকে লেখাপড়া করাচ্ছিলাম। ছেলে প্রবাসী ও ধনী হওয়ায় আমরা নুর নাহারকে বিয়ে দেই। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে তার র’/ক্ত’/ক্ষ’/র’/ণ শুরু হয়।

এ জন্য নুর নাহারের শাশুড়ি তাকে গ্রাম্য কবিরাজের ওষুধ খাওয়াচ্ছিল। পরে র’/ক্ত’/ক্ষ’/র’/ণ বেশি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা বলেছেন, অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের কারণে নুর নাহারের গো’/প’/না’/ঙ্গ দিয়ে র/’ক্ত/’ক্ষ’/র’/ণ হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা তাকে আর বাঁ/চা/তে পারলাম না। নুর নাহারের স্বামী রাজিব তাকে দেখতে পর্যন্ত আসেনি। মূলত স্বামীর কারণেই আমার নাতনির মৃ’/’/’ত্যু হয়েছে।

নুর নাহারের স্বামী রাজিব বলেন, আমার বিয়ের পর তার সাথে পাঁচ ছয়দিন মে/লা/মে/শা হয়েছে। সে (ছাত্রী) বলছে তার কষ্ট হয়, ব্য/থা/র কথা জানান এবং র’/ক্ত’/ক্ষ’/র’/ণ দেখা দেয়। বিষয়টি দু’পক্ষের গার্জেনদের জানানো হয়। গার্জিয়ানরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

নুর নাহারের শাশুড়ি বিলকিস বেগম বলেন, আমি মনে করছি ভু/ত/পে/তে/র আছর করতে পারে, তাই কবিরাজ দিয়ে তাবিজ এনে পরিয়েছি। তাতেও কোন উন্নতি না হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইলে ক্লিনিকে নিছি।

নুর নাহারের বাবা বলেন, রাজিবের বাবাকে কয়েকদফা ফোন দিয়েছি। তিনি বলছেন, আপনারা চিকিৎসা করান, আমি গিয়ে কি করব। আর ক্লিনিকে নুর নাহারকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে স্বামী রাজিব কৌশলে সেখান থেকে কেটে পড়ে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে অষ্টম শ্রেণির একজন ছাত্রীর মৃ’’ত্যু হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। শুধু আইন দিয়ে নয়, সামাজিক সচেতনতাই পারে বাল্য বিয়ে নির্মূল করতে। সমাজের সকলকে একযোগে এর মোকাবেলা করতে হবে।

এদিকে, ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারের সাথে তার স্বামীর পরিবার মীমাংসার করার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি এই বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতে চাচ্ছে স্কুল ছাত্রীর স্বামীর পরিবার। তবে ওই এলাকার অনেকে বলেন এই ঘটনার বিচার না হলে এর সঠিক সবাধান হবে না। আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে এর বিচার করতে হবে তা না হলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলেন অনেকে।