করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ব্যাপক ভাবে বাড়ছে। তবে ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেক করোনা রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যা একেবারে কম নয়। যে সকল ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন তাদের মধ্যে অনেকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছে। এছাড়া অনেক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। আর এবার তেমনই একজন জানালেন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মাত্র ৫ দিনেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।


বাংলাদেশের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার রুহুল আমিন সেকুল।

গাজীপুর জেলার হোতাপাড়ায় অবস্থিত এ্যালিগেন্ট গ্রুপ অব কোম্পানিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রুহুল আমিন করোনাকে জয় করেছেন মাত্র পাঁচদিনেই। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান ২৭ মার্চ বন্ধ হলেও ব্যবস্থাপক কর্মকর্তারা অফিস করেন ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর থেকে বাসাতেই সময় কাটে রুহুল আমিনের। বাইরে গেলেও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা মেনে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে দ্রুত ঘরে ফিরতেন।

সুস্থ থাকায় ঈদের চারদিন আগে ব্যক্তিগত পরিবহনে করে কর্মস্থল গাজীপুর থেকে নিজের বাসা জামালপুরের সরিষাবাড়ী যান রুহুল আমিন। বাসায় আসার পরও নিয়ম মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে যান তিনি এবং কোনো লক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও সতর্কতার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করেন।

ঈদের দিন তার করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে। স্বাভাবিকভাবেই শুরুতে ভড়কে যান তরুণ এই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তবে ভেঙে না পড়ে ভয়কে জয় করেছেন তিনি।

মাত্র ৫ দিনে করোনা জয়ের সেই গল্প এভাবেই শুরু করলেন রুহুল আমিন, ’২৫ মে অর্থাৎ ঈদের দিন রাতেই আমার বাসার সামনে উপজেলা প্রশাসন থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। সেদিন রাতেই জামালপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় আমাকে।’

তিনি বলেন, ’আমার চিকিৎসা শুরু হয় ২৬ তারিখ থেকে। ডা. যখন জানতে পারলেন আমার কোনোরকম লক্ষণ দেখা যায়নি, সেই মোতাবেক ওষুধ প্রদান করলেন। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে বললেন। আমি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন বেশি পরিমাণে ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে শুরু করলাম।’

’গরম পানির ভাপ নিতাম। এই গরম পানির ভাপ তৈরিতে যে উপাদানগুলো থাকতো তা হলো- গোলমরিচ, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, আদা, রসুন, কালোজিরা এবং তেজপাতা। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেইনি। হাসপাতাল থেকে সরবরাহকৃত খাবারই গ্রহণ করতাম। আমরা যারা করোনায় আক্রান্ত ছিলাম তাদের জন্য মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করতো কর্তৃপক্ষ,’ বলেন রুহুল আমিন।

এভাবে নিয়ম মেনে চলে মাত্র পাঁচদিনেই করোনামুক্ত রুহুল আমিন আরও বলেন, ’আইসোলেশনে তিনদিন কাটানোর পর প্রাথমিকভাবে ২৮ মে পুনরায় পরীক্ষা করাই এবং আমার ফলাফল নেগেটিভ আসে। ৩১ মে নেগেটিভ ফল পেয়ে ওইদিনই আইসোলেশন কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরি আমি।’

তিনি আরও বলেন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হলে ভয়ের কিছু নেই। কারণ এই সময় ভীত হয়ে পড়লে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি জানান চিকিৎসকের ওষুধ থেকেও মনবল সুস্থ হতে অনেক সহায়তা করেছে। তিনি আরও বলেন মানসিক শক্তি আমাকে সুস্থ হতে অনেক সহায়তা করেছে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলেছি। আর এ সকল কারণে আমি খুম কম সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হতে পেরেছে। তিনি শেষের দিকে বলেন এই করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হতে হলে অবশ্যই শক্ত মনবাল রাখতে হবে। তবেই আল্লহর রহমতে করোনা থেকে সুস্থ হওয়া যাবে।