বিএনপি বর্তমানে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য নেতারা এখন রাস্তায় নামার চেষ্টা করছে। একই সাথে নেতারা দলকে সাজানোর কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া বেশ কিছু নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে দলের অনেক নেতারা। এরই অংশ হিসেবে জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির (জেলা বার) বার্ষিক নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ।
জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির (জেলা বার) বার্ষিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটেছে। নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের তরুণ-শাহীন প্যানেল ১১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিতি আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নৃপেন-সুফিয়ান প্যানেলের প্রার্থীরা মাত্র দুইটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (৩০ নভেম্বর) জয়পুরহাট জেলা বারের আইনজীবী ভবনে শান্তিপূর্ণভাবে সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনে সভাপতি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের তরুণ-শাহীন প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মো: রফিকুল ইসলাম তালুকদার তরুণ পেয়েছেন ৯৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল পেয়েছেন ৮৬ ভোট এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহনুর রহমান শাহীন পেয়েছেন ১২০ ভোট, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দেওয়ান আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ৬৫ ভোট।

এ ছাড়াও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্যান্য কর্মকর্তা হলেন সহসভাপতি পদে ইসলামিক ল ইয়ার্স কাউন্সিলের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমিন ফকির, অর্থ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এ কে এম আবু সুফিয়ান পলাশ, প্রচার-প্রকাশনা ও লাইব্রেরি সম্পাদক অ্যাডভোকেট রিনাত ফেরদৌসী রিনি, আপ্যায়ন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আলমগীর কবির এবং কার্যকরী সদস্য পদে মোট তিনজন যথাক্রমে অ্যাডভোকেট নাসিমুস সাকালাইন টিটো, অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমিন হামিদুল ও অ্যাডভোকেট নূর ই আলম সিদ্দিক নির্বাচিত হয়েছেন। অপর দিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নিরীক্ষা সম্পাদক পদে যথাক্রমে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিতি আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নৃপেন-সুফিয়ান প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো: খলিলুর রহমান মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট মো: মানিক হোসেন। সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান (২) অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির (জেলা বার) এ নির্বাচনে মোট ১৯৩ জন ভোটারের মধ্যে এবার ১৮৮ জন ভোটার (আইনজীবী) তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান।

প্রঙ্গত, বিএনপি-জামায়াত এর আগেও কয়েকটি জেলা আইনজীবী সমিতির (জেলা বার) বার্ষিক নির্বাচনে জয়ি হয়। এর মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপির নেতা বলেন, আমরা আমাদের নেতাদের কারাগার থেকে বের করে আনবো। আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তার পতিবাদ করে তাদেরকে কারাগার থেকে বের করবো। এ জন্য নেতাদের একত্র হতে বলেছেন দলের সিনিয়র নেতারা।