বাংলাদেশে সড়ক ও পরিবহন আইন প্রনয়নের পর থেকে পরিবহন খাতে যেন সংকট লেগেই আছে। কিছুদিন পূর্বে পরিবহন শ্রমিকরা প্রনীত আইনের পরিবর্তন করবার জণ্য দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পরিবহন ধর্মঘট করে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারন মানুষ। এমনকি পরিবহন সংশ্লিষ্ট অনেক চালক বা হেলপার এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশা গ্রহন করেছে। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক হবার পর এবার শুরু হয়েছে পেট্রল পাম্পগুলোতে ধর্মঘট।
ঠাকুরগাঁওয়ে এমপিকে বহনকারী গাড়িতে জ্বালানী (ডিজেল) দেয়নি পাম্প শ্রমিকরা। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী ফিলিং ষ্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

সকালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। তাকে বহনকারী গাড়ি দুটি শহরের চৌধুরী ফিলিং ষ্টেশনে জ্বালানী নেয়ার জন্য গেলে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা জ্বালানী সরবরাহ না করেই গাড়ি দুটি ফিরিয়ে দেয়। এ সময় গাড়িতেই বসা ছিলেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন।

পাম্পে কর্মরত শ্রমিক অটল রায় জানান, আমাদের মালিকের নির্দেশে আমরা সব ধরণের জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ রেখেছি। কতদিন বন্ধ থাকবে তা জানি না।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক এক গনমাধ্যমকে বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে এর আগে সরকারের নিকট বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। এর পর সরকার আমাদের দাবিগুলো পূরনের শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়ে আসছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সে সকল দাবির বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারনে আমরা এবার আবার ১৫ দফা দাবির বিষয়টি তুলে ধরেছি। আর আমাদের এই দাবিগুলো না মানা হলে আমরা ধর্মঘট অনির্দিষ্টি কালের জন্য চালিয়ে যাব।

এদিকে কোনো রকম আগাম ঘোষনা না দিয়েই পাম্প ধর্মঘট শুরু হবার ফলে ব্যপকভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারন মানুষকে এবং সেই সাথে এর প্রভাব পড়েছে পেট্রলজাত জ্বালানী ব্যবহারকারী মানুষের।