করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটা দেশে কোটি কোটি মানুষ নানা রকম সমস্যার মধ্যে পড়েছে। আর এই করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেশে দেশে এখনো লকডাউন চলছে। এ কারণে বিশ্বের প্রতিটা দেশের অর্থনীতি একে বারে ভেঙে পড়েছে। এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রথম থেকে চীনকে দোষারোপ করে আসছে। কারণ এই চীনই প্রথম করোনা ভাইরাস দেখা দেয়। এরপর এই করোনা ভাইরাস একে একে বিশ্বের প্রতিটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আর এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ গেছে। এ জন্য প্রথম থেকেই চীনকে দোষারোপ করছে বিশ্বের অনেক দেশ।



করোনা ভাইরাস নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগে সরব হয়েছে আমেরিকা সহ একাধিক দেশ৷ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে চীন৷ তবে ক্রমাগত চাপ বাড়তে থাকায় অবশেষে দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করল বেজিং৷

চীনে কবে, কোথায় করোনা সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে, এই শ্বেতপত্রে সেই তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে৷

রবিবার চীন দাবি করেছে, করোনা সংক্রমণের প্রথম মামলাটি গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ইউহানে সামনে এসেছিল৷ তবে করোনা ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এবং মানব শরীর থেকে মানব শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা প্রথম চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জানা যায় বলে দাবি করেছে বেজিং৷

চীনের দাবি, গত ১৯ জানুয়ারি একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে সংক্রমণের এই ঘটনা সামনে আসার পরই তা রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷

তবে এ দিনও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন৷ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কথা গোপন করা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আত্মপক্ষসমর্থনে শ্বেতপত্রে বিশদে ব্যাখ্যাও দিয়েছে চীন৷

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অভিযোগ করেছেন, চীন সময়মতো তথ্য না জানানোর কারণেই গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

চীনে করোনা ভাইরাসের উৎসস্থল হলেও এখন সেদেশ তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ৷ বরং করোনা ভাইরাস মহামারি বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে চীনের থেকেও কয়েকগুণ খারাপ রূপ ধারণ করেছে৷

শ্বেতপত্রে চীন দাবি করেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর ইউহানের একটি হাসপাতালে প্রথম বার করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা হয়৷ এর পরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়৷
শ্বেতপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকারের গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গত ১৯ জানুয়ারি প্রথমবার জানায়, মানব দেহ থেকে অন্য মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ ঘটতে পারে৷ এর পরই সংক্রমণ রুখতে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়৷

এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিন দিন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সাথে সাথে প্রাণ যাওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। এমনকি চীনের থেকে অনেক খারাপ অবস্থা দেখা দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আর এই সকল ঘটনার জন্য চীনকে প্রথম থেকে দোষারোপ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এমনকি অনেক দেশ বলেছে চীন ইচ্ছা করে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। আর বর্তমানে তাদের দেশে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। তবে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে রয়েছে চীন। আর এই চাপের মুখে পড়ে এবার কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে চীন।